স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার শঙ্কা, পুলিশের সক্ষমতায় ঘাটতি
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কা করছে পুলিশ। তবে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের প্রয়োজনীয় সক্ষমতায় ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা। বিশেষ করে যানবাহন সংকটের কারণে পুলিশের স্বাভাবিক সক্ষমতা প্রায় ২০ শতাংশ কমে গেছে বলে জানা গেছে।
বুধবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্বাচনী প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব বিষয় উঠে আসে। অনুষ্ঠানে আইজিপি আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আড়াই হাজার যানবাহনের ঘাটতি
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে বর্তমানে ১৬ হাজার ১৬৯টি যানবাহন রয়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় আড়াই হাজার যানবাহন কম রয়েছে।
আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, প্রয়োজনীয় রসদ ও যানবাহনের ঘাটতির কারণে পুলিশের স্বাভাবিক সক্ষমতা প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পরিস্থিতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, স্থানীয় নির্বাচনে একই এলাকায় একাধিক প্রার্থী ও প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ সক্রিয় থাকায় সংঘাতের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। ফলে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের পর্যাপ্ত সক্ষমতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
জুলাইয়ের সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন
পুলিশের যানবাহন সংকটের পেছনে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় বিভিন্ন পুলিশ স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকেও কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে পুলিশের ১ হাজার ৭৪টি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এর মধ্যে ৪৫৫টি গাড়ি ও মোটরসাইকেল আগুনে পুড়ে যায় এবং ৬২০টি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। পরে ২০২৫ সালে পুলিশের আরও ১ হাজার ৩৬৯টি যানবাহন অকেজো হয়ে পড়ে।
পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা, যানবাহন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বর্তমানে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় যানবাহন ও সরঞ্জামের চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সহিংসতার আশঙ্কা নির্বাচন কমিশনেরও
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনও।
নির্বাচনী প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তুলনামূলক বেশি সহিংসতা দেখা গেছে। একই এলাকায় একাধিক প্রার্থী, এমনকি একই পরিবারের একাধিক সদস্য প্রার্থী হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ ও সংঘাত তৈরি হতে পারে।
সিসিটিভি ও বডি ক্যামেরায় নজরদারি
নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন সিইসি।
তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় সিসিটিভি ক্যামেরা, বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ডিজিটাল ও অনলাইন মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। এর মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হবে।
অনুষ্ঠানে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অতিরিক্ত আইজিপি, মহানগর পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি এবং ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ছিলেন।
অনুরূপ সংবাদ
ফায়ারিং প্রশিক্ষণে সেনাসদস্যের মৃত্যু, ছেলেকে হারিয়ে বারবার সংজ্ঞা হারাচ্ছেন মা
গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে ভারতের অবস্থানে উদ্বেগ
শিল্পে গ্যাস সংকট ঠেকাতে নতুন এলএনজি টার্মিনাল, ১৫০ কূপ খননের পরিকল্পনা