তিতাস গ্যাসে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্ত হলেও ব্যবস্থা না নেওয়ার দাবি
দেশে গ্যাসের সংকটের মধ্যে তিতাস গ্যাসে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দৈনিক ইনকিলাবের এক প্রতিবেদনে তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহনেওয়াজ পারভেজকে ঘিরে গ্যাস সংযোগ, লোড বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন অনিয়মের একাধিক অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগের তদন্ত হলেও সেসবের ফল প্রকাশ বা দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিতাসের আওতাধীন বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে নতুন গ্যাস সংযোগ ও লোড বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। সাভার, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ এলাকায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগ বেশি এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্যাস সরবরাহ কমে তীব্র সংকট
এদিকে দেশে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্পকারখানা ও আবাসিক গ্রাহকেরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ২ হাজার ১১৪ থেকে ২ হাজার ১৫১ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে।
সরবরাহ ঘাটতির কারণে বিভিন্ন শিল্পকারখানার উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেছে। ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার পাশাপাশি আবাসিক গ্রাহকেরাও রান্নার কাজে সমস্যায় পড়ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিতাসের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার কারণে পাইপলাইনের বিভিন্ন ছিদ্র বা ফাটল দিয়ে পানি প্রবেশ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতার প্রভাব
প্রতিবেদনটিতে বর্তমান গ্যাস সংকটের জন্য শুধু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে দায়ী করা হয়নি। ২০১১-১২ সাল থেকে গ্যাস আমদানিনির্ভর পরিকল্পনা, দেশীয় উৎসে উৎপাদন কমে যাওয়া, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি এবং জ্বালানি নীতির বিভিন্ন সীমাবদ্ধতাকেও সংকটের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিতাসের আওতাধীন এলাকায় দৈনিক প্রায় ২ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে যাওয়ায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
শাহনেওয়াজ পারভেজের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ
প্রতিবেদনে শাহনেওয়াজ পারভেজের নিয়োগ, চাকরিজীবন, পদায়ন এবং বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং দীর্ঘ সময় একই বিভাগে দায়িত্ব পালনের বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
এ ছাড়া পেট্রোবাংলা ও গ্যাস খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাঁর ভূমিকা নিয়েও প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
তদন্তের কথা স্বীকার করেছেন এমডি
নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে শাহনেওয়াজ পারভেজ দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, একটি মহল তাঁর বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন অভিযোগ দিয়েছে এবং সেসবের তদন্ত হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিকবার তদন্ত হয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ বা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও স্পষ্ট করে বলতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্যাসের সরবরাহ ঘাটতি, অবকাঠামোগত সমস্যা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলমান সংকটের মধ্যে তিতাস গ্যাসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তির দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে এসেছে।
অনুরূপ সংবাদ
সাফারি পার্কের চুরি হওয়া ২ লেমুর ভারতে, ডিএনএ না থাকায় বিপাকে বাংলাদেশ
রামদা ধার দিচ্ছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী, ভিডিও ভাইরাল
সস্তায় ইলিশের বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা, নড়াইলে গ্রেপ্তার ৪