সাফারি পার্কের চুরি হওয়া ২ লেমুর ভারতে, ডিএনএ না থাকায় বিপাকে বাংলাদেশ
গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুটি লেমুরের সন্ধান মিলেছে ভারতে। তদন্তে সিআইডি জানতে পেরেছে, প্রাণী দুটি ভারতের বানতারা পার্কে বিক্রি করা হয়েছে। তবে চুরি যাওয়া লেমুর দুটির ডিএনএ প্রোফাইল বাংলাদেশে সংরক্ষণ করা না থাকায় সেগুলোই সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া প্রাণী কি না, তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
৪৮ লাখ রুপিতে বিক্রির তথ্য
সিআইডির তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, চুরি হওয়া লেমুর দুটি ভারতের বানতারা পার্কে প্রায় ৪৮ লাখ রুপিতে বিক্রি করা হয়েছে। প্রাণী দুটির অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সেগুলো চুরি হওয়া লেমুর কি না, তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কিন্তু বানতারা পার্ক কর্তৃপক্ষ পরিচয় নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের কাছে লেমুর দুটির ডিএনএ প্রোফাইল চেয়েছে। সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে সেই তথ্য না থাকায় এখন প্রাণী দুটির মালিকানা বা উৎস প্রমাণের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
কীভাবে সাফারি পার্কে এসেছিল লেমুর
গাজীপুর সাফারি পার্কে থাকা লেমুরগুলোর মধ্যে দুটি ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জব্দ করা হয়েছিল। চোরাচালানের সময় শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ ও ঢাকা কাস্টমস হাউস প্রাণী দুটি জব্দ করে। পরে বন বিভাগের নির্দেশে সেগুলো গাজীপুর সাফারি পার্কে পাঠানো হয়।
সাফারি পার্কে নেওয়ার পর লেমুরগুলোর বংশবৃদ্ধি হয়। একপর্যায়ে পার্কে লেমুরের সংখ্যা বাড়ে। তবে ২০২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি লেমুর মারা যায়। এরপর গত বছরের নভেম্বর মাসে দুটি লেমুর পার্ক থেকে চুরি হয়ে যায়। এ ঘটনায় মামলা করা হয়।
মামলায় গ্রেপ্তার ছয়
লেমুর চুরির ঘটনায় করা মামলায় মো. মঞ্জু মিয়াসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
তদন্তের একপর্যায়ে চুরি হওয়া লেমুর দুটি ভারতে পাচার করে বিক্রি করার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর বানতারা পার্কে প্রাণী দুটির অবস্থান শনাক্ত হয়। কিন্তু ডিএনএ প্রোফাইল না থাকায় সেগুলো বাংলাদেশ থেকে চুরি হওয়া লেমুর কি না, তা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া আটকে গেছে।
বন্য প্রাণী শনাক্তে ডিএনএ কেন গুরুত্বপূর্ণ
বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বন্য প্রাণী পাচারের ঘটনা শনাক্ত এবং পাচার হওয়া প্রাণী দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ডিএনএ প্রোফাইল গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করতে পারে। একই প্রজাতির অনেক প্রাণী থাকলে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণী কোথা থেকে এসেছে, সেটি শনাক্ত করতেও ডিএনএ সহায়ক।
বন বিভাগের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী জানিয়েছেন, বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের ফরেনসিক ল্যাবে ডিএনএ প্রোফাইল তৈরির সুযোগ রয়েছে। তবে আগে বিষয়টির প্রয়োজনীয়তা এভাবে বিবেচনায় আসেনি এবং এ বিষয়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকেও কোনো নির্দেশনা ছিল না।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ মনিরুল এইচ খান মনে করেন, মূল্যবান প্রাণীগুলোর অন্তত ডিএনএ প্রোফাইল সংরক্ষণ করা উচিত। তাঁর মতে, লেমুরগুলোর ডিএনএ তথ্য থাকলে বর্তমানে চুরি হওয়া প্রাণী দুটি শনাক্ত করা অনেক সহজ হতো।
অনুরূপ সংবাদ
তিতাস গ্যাসে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্ত হলেও ব্যবস্থা না নেওয়ার দাবি
রামদা ধার দিচ্ছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী, ভিডিও ভাইরাল
সস্তায় ইলিশের বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা, নড়াইলে গ্রেপ্তার ৪