তামাকে বছরে ২ লাখ মৃত্যু, এসডিজি অর্জনে বড় চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশে তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহারের কারণে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষ মারা যান। একই সঙ্গে তামাকের ব্যবহার হৃদ্রোগ, স্ট্রোক ও ক্যানসারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ফলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেও এটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ, এনসিডি ও এসডিজি: বাংলাদেশের অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলা হয়। প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা) যৌথভাবে এ আয়োজন করে।
অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর বড় কারণ তামাক
বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগের কারণে হয়ে থাকে। হৃদ্রোগ, স্ট্রোক ও ক্যানসারসহ এসব রোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হলো তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অসংক্রামক রোগে অকালমৃত্যু এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনার এসডিজি লক্ষ্য অর্জন করতে হলে তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
শুধু স্বাস্থ্য নয়, উন্নয়নেও প্রভাব
বক্তারা বলেন, তামাকের ক্ষতি শুধু মানুষের স্বাস্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তামাকের ব্যবহার দারিদ্র্য হ্রাস, খাদ্যনিরাপত্তা, মানসম্মত শিক্ষা, লিঙ্গসমতা, পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষাসহ এসডিজির বিভিন্ন লক্ষ্য অর্জনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তাই তামাক নিয়ন্ত্রণকে শুধু স্বাস্থ্য খাতের বিষয় হিসেবে না দেখে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখার আহ্বান জানানো হয়।
ই-সিগারেট ও ভেপিং নিয়েও উদ্বেগ
বৈঠকে বলা হয়, সরকার সম্প্রতি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করেছে, যা ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে ই-সিগারেট, ভেপিংসহ নতুন ধরনের নিকোটিনজাত পণ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা।
তাঁদের মতে, এসব পণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশোধিত আইনের প্রয়োজনীয় বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নেরও দাবি জানানো হয়।
তামাক কোম্পানির প্রভাবমুক্ত নীতি প্রণয়নের আহ্বান
তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ও নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তামাক কোম্পানির প্রভাব থেকে নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন আলোচকেরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ শুধু স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয় নয়; এর সঙ্গে দেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষাও জড়িত। রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা গেলে তামাক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এসডিজি অর্জনের পথ আরও সহজ হবে।
গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান
বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
আলোচকেরা জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান।