শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। একটি দেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি ও সামাজিক অগ্রগতির সঙ্গে সাক্ষরতার সম্পর্কও গভীর। বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে সাক্ষরতার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও এই হার বাস্তবে মানুষের পড়া, লেখা ও প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জনের সক্ষমতার কতটা প্রতিফলন ঘটাচ্ছে—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
প্রতিবছর ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। ১৯৬৬ সালে ইউনেসকোর উদ্যোগে প্রথম দিবসটি পালিত হয়। বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদ্যাপন করা হয়। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষা ও সাক্ষরতার গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসা।
বাড়ছে সাক্ষরতার হার
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার ছিল তুলনামূলকভাবে কম। বিভিন্ন সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে দেশে সাক্ষরতার হার ছিল ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ। পরবর্তী কয়েক দশকে এই হার ধীরে ধীরে বেড়েছে।
সাম্প্রতিক হিসাবে ২০২৫ সালে বাংলাদেশের সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ স্বাধীনতার পর থেকে সাক্ষরতার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তবে শুধু নাম লেখা বা সাধারণ কিছু পড়তে পারার সক্ষমতার ভিত্তিতে সাক্ষরতার হার নির্ধারণ করা হলে মানুষের প্রকৃত শিক্ষাগত দক্ষতার চিত্র পুরোপুরি উঠে আসে কি না, সেটি নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
শুধু নাম লিখতে পারাই কি সাক্ষরতা?
সময়ের সঙ্গে সাক্ষরতার ধারণাও পরিবর্তিত হয়েছে। আগে নিজের নাম লিখতে পারলেই কাউকে সাক্ষর হিসেবে বিবেচনা করা হতো। পরে পড়া ও লেখার পাশাপাশি সাধারণ হিসাব-নিকাশ এবং দৈনন্দিন জীবনে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগের সক্ষমতাকেও সাক্ষরতার অংশ হিসেবে ধরা হয়।
বর্তমানে যোগাযোগ, জীবনযাপন, কর্মসংস্থান, সামাজিক সচেতনতা এবং তথ্য ব্যবহারের দক্ষতাও সাক্ষরতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
ফলে একজন ব্যক্তি শুধু অক্ষর চিনতে পারলেই তিনি প্রকৃত অর্থে কতটা সাক্ষর—এ প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
দেশে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, বিনা মূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ, শিক্ষাবৃত্তি এবং বিভিন্ন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে সাক্ষরতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও পাঠাগারও এ ক্ষেত্রে কাজ করছে। এসব উদ্যোগের ফলে শিক্ষা ও বই পড়ার সুযোগ অনেক মানুষের কাছে পৌঁছেছে।
তবে বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরও অনেক শিক্ষার্থী মৌলিক পড়া ও লেখার দক্ষতা অর্জন করতে না পারার বিষয়টি শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাই শুধু পরিসংখ্যানের মাধ্যমে নয়, মানুষের বাস্তব দক্ষতার ভিত্তিতেও সাক্ষরতার অগ্রগতি মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে।
সাক্ষরতা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
সাক্ষরতা মানুষের আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ায় এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে। একজন সাক্ষর মানুষ নিজের অধিকার সম্পর্কে জানতে পারেন, তথ্য যাচাই করতে পারেন এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হন।
একটি দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য তাই শুধু শিক্ষার হার বাড়ানো নয়, শিক্ষার মান ও কার্যকর সাক্ষরতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার আরও বাড়াতে সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার আওতায় এনে তাদের জীবন ও কর্মমুখী দক্ষতা বাড়ানো গেলে সাক্ষরতার প্রকৃত সুফল পাওয়া সম্ভব।
অনুরূপ সংবাদ
বাজেটে কালো টাকা সাদা করার বিধান, কারা পাবেন এই সুবিধা?
বিরোধীদের এলাকায় নারী এমপিদের উন্নয়ন তদারকির দায়িত্ব নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ সংশোধন হচ্ছে; মেটাকে ২৪ ঘণ্টায় কনটেন্ট সরাতে বাধ্য করার বিধান যুক্ত করার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ভারতে পাট পাচার কেন বাড়ছে, ক্ষতি কার?
৮ ঘন্টা আগে
ভূমিধসে তিস্তা অবরুদ্ধ, এখন কেমন পরিস্থিতি?
৮ ঘন্টা আগে
সাক্ষরতায় এগোলেও প্রশ্ন রয়ে গেছে বাংলাদেশে
৮ ঘন্টা আগে
পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা
৮ ঘন্টা আগে