ভারতের সিকিমে বড় ধরনের ভূমিধসের কারণে তিস্তা নদীর একটি অংশে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিধসের মাটি ও পাথর পড়ে তিস্তার উপনদী চিয়াকুং নদীতেও তৈরি হয়েছে প্রাকৃতিক বাঁধের মতো প্রতিবন্ধকতা। এতে সিকিমের পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের তিস্তা অববাহিকায়ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
উত্তর সিকিমের মাঙ্গান জেলার নাগা বনাঞ্চলের থেং টানেলের কাছে এ ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড়ের বড় একটি অংশ ধসে চিয়াকুং নদীতে পড়ে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ আংশিকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়ে পেছনে পানি জমতে শুরু করে।
এখন পরিস্থিতি কেমন?
প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তিস্তার পানিপ্রবাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। চিয়াকুং নদীতেও অল্প পরিমাণে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ভূমিধসের মাটি, পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ এখনো নদীর একটি অংশে জমে রয়েছে। ফলে সেখানে পানির চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, নদীর পানি চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হবে। মাঙ্গান ও চুংথাং প্রশাসন যৌথভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদেরও মোতায়েন করা হয়েছে।
হঠাৎ বাঁধ ভেঙে গেলে ঝুঁকি
ভূমিধসের ফলে তৈরি হওয়া প্রাকৃতিক বাঁধটি যদি অতিরিক্ত পানির চাপে ভেঙে যায়, তাহলে আকস্মিকভাবে বিপুল পরিমাণ পানি নিচের দিকে নেমে আসতে পারে। এর সঙ্গে কাদা, পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষও ভেসে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
এ কারণে তিস্তা নদীর আশপাশের এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নদীর তীর থেকে দূরে থাকতে এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ ও উঁচু এলাকায় সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।
পশ্চিমবঙ্গেও সতর্কতা
তিস্তার পানিপ্রবাহের সম্ভাব্য পরিবর্তন বিবেচনায় পশ্চিমবঙ্গের কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারসহ তিস্তা অববাহিকার বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
নদীর তীরবর্তী এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নদীসংলগ্ন রাস্তা ও ঝুলন্ত সেতু ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্যও উদ্বেগ
তিস্তার নিম্ন অববাহিকার একটি অংশ বাংলাদেশে হওয়ায় সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গে বড় ধরনের আকস্মিক বন্যা হলে এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে।
তবে এ মুহূর্তে বাংলাদেশে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে ভূমিধসে তৈরি বাধার অবস্থা, বৃষ্টিপাত এবং নদীর পানিপ্রবাহের ওপর।
২০২৩ সালেও সিকিমে আকস্মিক বন্যায় তিস্তা অববাহিকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার কারণে এবারের ঘটনাতেও প্রশাসন শুরু থেকেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
অনুরূপ সংবাদ
পশ্চিমবঙ্গে দুই আসনে উপনির্বাচন ৬ অক্টোবর, রেজিনগরে কি লড়বেন মমতা?
ইরান যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার কেন বাড়ছে ঝুঁকি?
কক্সবাজারের বিচে সড়ক নির্মাণ স্থগিতের আদেশ: হাইকোর্টকে জাতিসংঘের অভিনন্দন
জার্মানির নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থীদের বড় জয়: কাঁপছে ইউরোপের রাজনীতি
ভারতে পাট পাচার কেন বাড়ছে, ক্ষতি কার?
৮ ঘন্টা আগে
ভূমিধসে তিস্তা অবরুদ্ধ, এখন কেমন পরিস্থিতি?
৮ ঘন্টা আগে
সাক্ষরতায় এগোলেও প্রশ্ন রয়ে গেছে বাংলাদেশে
৮ ঘন্টা আগে
পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা
৮ ঘন্টা আগে