Wednesday, 11 February 2026

ব্রেকিং নিউজ:

ঢাবি হলে ছাত্র সংগঠনের উপহার সামগ্রী ভাঙচুর, রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে ক্ষোভ

ক্যাম্পাস August 8, 2025 11:58 PM ৬৪ দর্শক
ঢাবি হলে ছাত্র সংগঠনের উপহার সামগ্রী ভাঙচুর, রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে ক্ষোভ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন হলে ছাত্র সংগঠনগুলোর দেওয়া উপহার সামগ্রী ভাঙচুর এবং বয়কটের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাতে মাস্টারদা সূর্য সেন হলে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের স্থাপন করা পানির ফিল্টার ভেঙে ফেলা হয়। একই সময়ে রোকেয়া হলে ছাত্র অধিকার পরিষদের দেওয়া স্যানিটারি ন্যাপকিনের ভেন্ডিং মেশিনে জুতা নিক্ষেপ এবং ছাত্রদলের দেওয়া ডাস্টবিনসহ অন্যান্য সব সংগঠনের সামগ্রী বয়কটের ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা।

এই ঘটনার সূত্রপাত হয় ঢাবিতে ছাত্রদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হল রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে, যার মধ্যেই বিভিন্ন সংগঠনের দেওয়া উপকরণ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ:

সূর্য সেন হলে ফিল্টার ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ঢাবি ছাত্রশিবিরের সাহিত্য ও ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল মারুফ ফেসবুকে লিখেছেন, “আপনারা আমাদের দেওয়া ফিল্টারের পানি পান করবেন না, এটি আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ। কিন্তু দয়া করে এই সরঞ্জামগুলো নষ্ট করবেন না। একটি ফিল্টার বসানোর পেছনে অনেক পরিশ্রম ও খরচ থাকে।” তিনি আরও বলেন, “ব্যবহার করতে না চাইলে সরিয়ে বা ফেরত দেওয়া যেত। কিন্তু সরাসরি নষ্ট করে দেওয়াটা হঠকারী সিদ্ধান্ত।” মারুফ সবাইকে দায়িত্বশীলতা ও সহনশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, রোকেয়া হলের ভেন্ডিং মেশিনে জুতা মারার ঘটনা নিয়ে ঢাবি শিক্ষার্থী জয়েনুদ্দিন সরকার তন্ময় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “এই পর্যন্ত ছাত্রী বান্ধব উদ্যোগের অন্যতম কাজ ছিল এই ভেন্ডিং মেশিন। যদি পছন্দ না হতো, তাহলে ফিরিয়ে দেওয়াটাই কাম্য ছিল। জুতা মারাটা কেমন সংস্কৃতি বুঝলাম না।” তিনি বলেন, যারা এখন রাজনীতি করছে, তারা সবাই ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে অংশ নিয়েছে, তাই সবার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকা উচিত।

রায়হান উদ্দীন, যিনি ঢাবি শিবিরের সাবেক নেতা, বলেন যে শিক্ষার্থীদের কোনো উপকরণ পছন্দ না হলে তারা সেটি বয়কট করার অধিকার রাখে। তবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ভাঙচুর করা অনুচিত ও নিন্দনীয়। তিনি প্রশাসনকে সবার মতামতের ভিত্তিতে ছাত্ররাজনীতির বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুরূপ সংবাদ