মানুষের জীবন হাসি ও কান্নার এক নিপুণ বুনন। পৃথিবীতে মানুষের আগমন ঘটে কান্নার মাধ্যমে, আর তার আগমনে চারপাশের মানুষ হাসে। ইসলামি জীবনদর্শন অনুযায়ী, যে ব্যক্তি পৃথিবীতে স্রষ্টার সান্নিধ্য ও তাঁর বিধান মেনে চলে, তার বিদায়কাল হবে হাসিময়, আর জগতবাসী তার জন্য কান্না করবে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে মুমিনের জীবনে হাসি ও কান্নার গুরুত্ব এবং এর সুন্নত পদ্ধতি নিয়ে আলোকপাত করা হলো।
হাসি-কান্না আল্লাহরই দান
মানবজীবনে আনন্দ ও বিষাদের অনুভূতি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, “আর নিশ্চয়ই তিনিই হাসান এবং তিনিই কাঁদান।” (সুরা নাজম, আয়াত: ৪৩)। মুমিন ব্যক্তি সুখের দিনে আল্লাহর শুকরিয়া জানায় এবং বিপদে তাঁর কাছেই আশ্রয় ও চোখের পানি ফেলে প্রশান্তি খোঁজে।
কোরআনে হাসির প্রকারভেদ
পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে ১০টি আয়াতে হাসির বর্ণনা এসেছে। মূলত পাঁচ ধরনের হাসির কথা সেখানে পাওয়া যায়: ১. বিস্ময়ের হাসি: কোনো অলৌকিক বা অদ্ভুত কিছু দেখে বিস্মিত হয়ে হাসা। যেমন সুলাইমান (আ.) পিপীলিকার কথা শুনে হেসেছিলেন। ২. সুসংবাদের হাসি: কোনো নেয়ামত বা খুশির খবর পেয়ে কৃতজ্ঞতার হাসি। যেমন ইবরাহিম (আ.)-এর স্ত্রী সন্তান লাভের খবর শুনে হেসেছিলেন। ৩. লক্ষ্য অর্জনের হাসি: পরকালে জান্নাত লাভের পর মুমিনের চিরস্থায়ী সুখের হাসি। ৪. তাচ্ছিল্যের হাসি: যা সাধারণত অবিশ্বাসীরা মুমিনদের বিদ্রূপ করতে ব্যবহার করে (এটি নিন্দনীয়)। ৫. মুনাফিকি হাসি: মুসলমানদের কষ্ট দেখে যারা গোপনে হাসে (এটিও নিষিদ্ধ)।
দুনিয়াতে মুমিনের আচরণ
পার্থিব জীবনে ইসলাম হাসির চেয়ে কান্না বা আল্লাহভীতির ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়। কারণ অতিরিক্ত হাসি হৃদয়কে মৃত করে দেয় এবং আখেরাতের কথা ভুলিয়ে দেয়। কোরআনের নির্দেশনা হলো— “তারা যেন কম হাসে এবং বেশি কাঁদে।” (সুরা তাওবা, আয়াত: ৮২)। তবে এই কান্না হতে হবে আল্লাহর ভয়ে এবং নিজের গুনাহের অনুশোচনায়।
হাসির সুন্নত পদ্ধতি
মুমিন ব্যক্তি কখনও অট্টহাসি বা উচ্চৈঃস্বরে হাসবে না। নবী-রাসুলদের সুন্নত হলো ‘মুচকি হাসি’। হাদিস অনুযায়ী, অট্টহাসি জ্ঞানীদের জন্য শোভনীয় নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বেশির ভাগ সময় মৃদু বা মুচকি হাসতেন, যা অন্যের মনে প্রশান্তি জোগাত।
যা নিষিদ্ধ
যে হাসি মানুষকে আল্লাহ থেকে বিমুখ করে দেয়, অন্যকে তুচ্ছজ্ঞান করতে শেখায় কিংবা ঠাট্টা-বিদ্রূপের পর্যায়ে চলে যায়, ইসলাম তা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। ইসলাম মানুষকে স্বভাবজাত আনন্দ থেকে বঞ্চিত করে না, কিন্তু উদাসীনতা ও অহংকার থেকে বিরত থাকতে বলে।
পরকালীন জীবনে অন্তহীন সুখ ও হাসিময় চেহারার অধিকারী হতে হলে দুনিয়ায় পরিমিত হাসি এবং আল্লাহভীতির অশ্রু মুমিনের প্রধান সম্বল হওয়া উচিত।
জেনে নিন কেন ঘুমের মধ্যে শরীর কেঁপে ওঠে
১৪ ঘন্টা আগে
মিয়া গোলাম পরওয়ারের পাঁচটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
১৫ ঘন্টা আগে
হাসি ও কান্না: ইসলামের দৃষ্টিতে মুমিনের জীবনদর্শন
১৫ ঘন্টা আগে