বাজেট অধিবেশনের পরেই মন্ত্রিসভার আকার বাড়ছে: আলোচনায় একঝাঁক হেভিওয়েট নেতা
প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং জনবান্ধব সরকার নিশ্চিত করতে ঈদুল আজহার পর বাজেট অধিবেশন শেষেই মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানোর জোরালো প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লক্ষ্য—গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কাজের চাপ কমাতে অভিজ্ঞ ও ত্যাগী নেতাদের নতুন নেতৃত্বে নিয়ে আসা এবং একজন মন্ত্রীর হাতে একটির বেশি দপ্তরের দায়িত্ব না রাখা।
সরকার ও বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন যারা
নতুন এই রদবদলে অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ানদের প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে। আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
-
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়: বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্যের নাম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্বের জন্য জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।
-
জয়নুল আবদিন ফারুক: নোয়াখালী অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপকে মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে।
-
সংরক্ষিত নারী আসন: এই কোটা থেকে স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমানের নাম আলোচনায় রয়েছে।
-
সংসদ উপনেতা: স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আব্দুল মঈন খানের নামও আলোচনায় রয়েছে।
টেকনোক্র্যাট কোটা ও তরুণ মুখ
ত্যাগী ও অভিজ্ঞ নেতাদের টেকনোক্র্যাট কোটায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন:
-
শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং হাবিবুন নবী খান সোহেল।
-
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকেও মূল মন্ত্রিসভায় আনা হতে পারে।
-
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আজিজুল বারী হেলাল, শহিদুল ইসলাম বাবুল এবং আমিরুল ইসলাম খান আলিমের নাম শোনা যাচ্ছে।
-
টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মওদুদ আলমগীর পাভেলের নামও আলোচনায় রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বড় পরিবর্তন
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বড় ধরনের রদবদলের আভাস পাওয়া গেছে। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীকে অন্য দপ্তরে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান উপদেষ্টা মাহাদী আমিনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
কাজের সুবিধার্থে দপ্তরের পুনর্বিন্যাস
সূত্রের দাবি, বর্তমানে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন মন্ত্রীর কার্যক্রমে ধীরগতি ও বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় তাদের দায়িত্ব কমানো হতে পারে। এ ছাড়া প্রশাসনে নতুন রক্ত সঞ্চালনে এবার প্রথমবারের মতো ‘উপমন্ত্রী’ পদ সৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
দলীয় ও সরকারি ভাষ্য
বিষয়টি নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, “এটি সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। দলীয় ফোরামে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি, তবে কাজের সুবিধার্থে তিনি যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।”
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। বাজেট পরবর্তী এই রদবদলে এই সংখ্যা আরও বাড়বে এবং প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল আসবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অনুরূপ সংবাদ
সহকারী শিক্ষক নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগে যুবশক্তির বিক্ষোভ
জাতিসংঘে খলিলুর রহমানের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনের মানদণ্ড স্পষ্ট করার দাবি নাহিদ ইসলামের