সব স্থানীয় নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতি জামায়াতের: প্রশাসক নিয়োগে ক্ষুব্ধ হাইকমান্ড
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার স্থানীয় সরকারের সব কাঠামোর নির্বাচনের জন্য কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলীয় সূত্রমতে, সারা দেশে প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে দলটি। তবে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগের সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব।
প্রার্থী তালিকা ও নির্বাচনের গ্রাউন্ড ওয়ার্ক
জামায়াত মনে করেছিল, সংসদ নির্বাচনের পরপরই স্থানীয় সরকারের ভোট গ্রহণ শুরু হবে। সেই লক্ষ্যেই উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদপ্রার্থী নির্ধারণে দফায় দফায় বৈঠক করেছে দলটির হাইকমান্ড। বর্তমানে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ ও নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি বা ‘গ্রাউন্ড ওয়ার্ক’ চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রশাসক নিয়োগে অসন্তোষ
সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে অনেক জায়গায় প্রশাসক নিয়োগ করায় ক্ষুব্ধ জামায়াতের নেতারা। দলটির মতে, এটি ‘স্বৈরাচারী মানসিকতা’র বহিঃপ্রকাশ। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা আশা করেছিলাম বিএনপি শেখ হাসিনার পথে হাঁটবে না। কিন্তু সর্বত্র প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে বিএনপি গণতন্ত্র ধ্বংসের পথে হাঁটছে, যা দেশের জনগণকে আশাহত করেছে।”
সংবিধান ও গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্ন
হামিদুর রহমান আযাদ সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে বলেন, স্থানীয় সরকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারাই পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু সরকার সে পথে না গিয়ে দলীয় লোকদের বড় পদে বসাচ্ছে। এটাকে তিনি ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অপকৌশল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, “জনগণের মতামত উপেক্ষা করে যারাই অতীতে কর্তৃত্ববাদী হওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদের পরিণতি ভালো হয়নি।”
সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন
জামায়াত জানিয়েছে, দু-এক জায়গা ব্যতীত সারা দেশে তাদের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন যেহেতু একটি চলমান প্রক্রিয়া, তাই একের পর এক নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা এলে তারা পূর্ণশক্তি নিয়ে অংশ নিতে প্রস্তুত। দলের হাইকমান্ড মনে করছে, তৃণমূল পর্যায়ে জনভিত্তি শক্ত করতেই এই নির্বাচনগুলোতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার ওপর ভিত্তি করে জামায়াত তাদের চূড়ান্ত কৌশলী অবস্থান গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।