পর্দা করা বা শালীনভাবে চলাফেরা করলেই কাউকে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের অনুসারী ভাবা ভুল বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর উম্মে কুলসুম পপি। দীর্ঘদিন ধরে তাকে ‘জামায়াত’ ট্যাগ দেওয়ার অপচেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেছেন, সত্য বলা বা পর্দানশীন হওয়া কোনো দলের একক বৈশিষ্ট্য হতে পারে না।
পর্দা করলেই কেন ট্যাগ?
রবিবার (১০ মে) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে উম্মে কুলসুম পপি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘‘আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। তবে কিছু মানুষ আমাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘জামায়াত’ ট্যাগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমার প্রশ্ন হলো—কেন শুধু এই একটিই ট্যাগ? বিএনপি, আওয়ামী লীগ বা অন্য দলের ট্যাগ কেন নয়?’’
তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাঁর পর্দা করা, ভদ্রভাবে চলাফেরা করা বা ব্যক্তিগত মূল্যবোধ মেনে চলাই কি এই ট্যাগিংয়ের কারণ? বাংলাদেশে কেউ পর্দা করলেই কেন তাকে নির্দিষ্ট একটি দলের মানুষ হিসেবে ধরে নিতে হবে, সেই প্রশ্নও ছুড়ে দেন তিনি।
বিবেকের দায়বদ্ধতা
পপি স্পষ্ট জানান, তিনি দলকানা হয়ে নয়, বরং বিবেক দিয়ে ভালো-মন্দের বিচার করেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি ভালো কাজের প্রশংসা করি এবং করবো, অন্যায়ের সমালোচনা করি এবং করবো; সে ব্যক্তি বা দল যেই হোক না কেন। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব।’’
নিজের বিবেককে কখনো বন্দি রাখতে চান না উল্লেখ করে এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরও বলেন, যারা না জেনে বা না বুঝে মানুষকে রাজনৈতিক তকমা দেন, তাদের উচিত সত্যটা বোঝা এবং মানুষকে সম্মান করা।
অনুসারীদের প্রতিক্রিয়া
সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর এই সাহসী পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়। অনেক অনুসারীই তাঁর এই যুক্তিপূর্ণ অবস্থানের প্রশংসা করেছেন। তারা মন্তব্য করেছেন যে, ধর্মভীরুতা বা পর্দার সাথে রাজনীতিকে গুলিয়ে ফেলা এক ধরণের সংকীর্ণতা।
উল্লেখ্য, উম্মে কুলসুম পপি তাঁর সামাজিক সচেতনতামূলক ও তথ্যসমৃদ্ধ কনটেন্টের জন্য নেটিজেনদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি পর্দা মেনে চলেন এবং প্রায়ই সমসাময়িক জাতীয় ইস্যুতে গঠনমূলক মন্তব্য করে থাকেন।