পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট মাঠে নামার আগে নিজের পেস বোলিং ইউনিটের ওপর অগাধ আস্থা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। শক্তির বিচারে বিশ্বজুড়ে পাকিস্তানের পেস আক্রমণ সমাদৃত হলেও বর্তমান পারফরম্যান্সের বিচারে নিজের বোলারদেরই সামান্য এগিয়ে রাখছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক এসব কথা বলেন।
পেস ইউনিটে নতুন আত্মবিশ্বাস
ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ স্পিন-নির্ভর দল হলেও গত কয়েক বছর ধরে চিত্রটা বদলেছে। পেসারদের হাত ধরেই বিদেশের মাটিতে ঐতিহাসিক সব জয় পেয়েছে টাইগাররা। শান্ত বলেন, “পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টে দুই দলই ভালো। তবে আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন, আমি বলব আমাদের পেস বোলিং আক্রমণ হয়তো সামান্য একটু আগায় থাকবে। পাকিস্তান সবসময়ই ভালো পেস বোলিং সাইড, এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু গত কয়েক বছর আমাদের পেসাররা যেভাবে বল করছে, তাদের ক্রেডিট দিতেই হবে।”
নাহিদ রানা: অধিনায়কের তুরুপের তাস
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন হয়ে উঠেছেন গতির ঝড় তোলা নাহিদ রানা। নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে সেরা হওয়া রানা পিএসএলেও (PSL) গতির মুন্সিয়ানা দেখিয়ে শিরোপা জিতেছেন।
রানাকে নিয়ে আশাবাদী শান্ত বলেন, “রানাকে আমি একদম ছোটবেলা থেকে চিনি। ও কী চায় বা কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করে সেটা আমি জানি। টেস্ট ক্রিকেটে একজন অধিনায়কের অধীনে যখন এমন একজন 'এক্সপ্রেস পেসার' থাকে, সেটা অবশ্যই বাড়তি সুবিধা। আশা করছি ও এই সিরিজেও ফর্মটা ধরে রাখবে।”
ব্যাটারদের প্রতি কড়া বার্তা
বোলাররা ছন্দে থাকলেও টেস্ট ম্যাচে ব্যাটারদের বড় দায়িত্ব নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন অধিনায়ক। শান্তর মতে, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই সাইকেলে ঘরের মাঠে দাপট দেখাতে হলে প্রথম ইনিংসে বড় রান তোলা জরুরি। তিনি বলেন, “পেসাররা আমাকে বাড়তি সাহস জোগাবে। কিন্তু ব্যাটার হিসেবে আমি চাইব আমরা যেন প্রথম ইনিংসটা ভালো খেলি। এই চ্যালেঞ্জটা নিতে পারলে আমাদের এই সাইকেলটা আরও ভালো হবে।”
লক্ষ্য যখন হোয়াইটওয়াশ
পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না—এমন প্রশ্নে শান্ত কিছুটা কৌশলী উত্তর দেন। তিনি সরাসরি হোয়াইটওয়াশের কথা না বলে সেশন বাই সেশন ভালো খেলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “হোয়াইটওয়াশ নিয়ে ওভাবে ব্যক্তিগতভাবে চিন্তা করি না। ১০ দিনের খেলা (দুই টেস্টে), এই ১০টা দিন আমরা কীভাবে ওদের চেয়ে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, সেটাই আমার মূল চিন্তা।”
আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই লড়াইয়ে বাংলাদেশের পেস বোলাররা পাকিস্তানের বিশ্বখ্যাত ব্যাটারদের কতটুকু পরীক্ষায় ফেলতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
অনুরূপ সংবাদ
হঠাৎ তাসনিম জারার বিস্ফোরক স্ট্যাটাসে তোলপাড়
৩ ঘন্টা আগে
তেলের বাজারে বড় পরিবর্তনের আভাস
২ দিন আগে