এআই দিয়ে ছবি বানাতে এত পানি ও বিদ্যুৎ লাগে কেন?
মুঠোফোনে কয়েকটি শব্দ লিখে দিলেই এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে মুহূর্তের মধ্যে ছবি তৈরি করা যায়। আশির দশকের ছবি থেকে শুরু করে নানা ধরনের বাস্তবধর্মী বা কল্পনাপ্রসূত ছবি তৈরির প্রবণতা এখন বেশ জনপ্রিয়। তবে এই সহজ কাজটির পেছনে রয়েছে বিশাল কম্পিউটিং অবকাঠামো, যার জন্য প্রয়োজন হয় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও পানি।
ব্যবহারকারীর ফোন বা কম্পিউটারে সাধারণত ছবিটি তৈরি হয় না। নির্দেশনা ইন্টারনেটের মাধ্যমে দূরের কোনো ডেটা সেন্টারে যায়। সেখানে হাজার হাজার শক্তিশালী সার্ভার প্রয়োজনীয় হিসাব-নিকাশ করে ছবি বা লেখা তৈরি করে পাঠায়।
সার্ভার ঠান্ডা রাখতে লাগে পানি
এআইয়ের কাজ পরিচালনার সময় ডেটা সেন্টারের সার্ভারগুলো প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে। অতিরিক্ত তাপ থেকে যন্ত্রপাতিকে সুরক্ষিত রাখতে বিশেষ শীতলীকরণ ব্যবস্থা প্রয়োজন হয়।
বড় ডেটা সেন্টারগুলোর একটি প্রচলিত পদ্ধতি হলো বাষ্পীভবনভিত্তিক কুলিং। এতে পানি সার্ভারের তাপ শোষণ করে এবং পরে কুলিং টাওয়ারের মাধ্যমে ঠান্ডা করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় পানির একটি অংশ বাষ্প হয়ে বাতাসে মিশে যায়।
এ ছাড়া পানিতে থাকা খনিজ পদার্থের ঘনত্ব বেড়ে গেলে তা পাইপ ও যন্ত্রপাতিতে আস্তরণ তৈরি করতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময় পর পুরোনো পানি সরিয়ে নতুন পানি ব্যবহার করতে হয়।
একটি এআই ছবিতে কত পানি লাগে?
এআই ব্যবহারে পানির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা সহজ নয়। কারণ হিসাবের পদ্ধতি ভেদে ফলাফল পরিবর্তিত হয়।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বিভিন্ন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একটি এআই ছবি তৈরিতে গড়ে প্রায় ২৩ মিলিলিটার পানি ব্যবহারের হিসাব পাওয়া গেছে। অন্য কিছু বিশ্লেষণে ৫ থেকে ৬০ মিলিলিটার বা তারও বেশি পানির হিসাব পাওয়া যায়।
এই পার্থক্যের অন্যতম কারণ হলো কোনো হিসাবে শুধু ডেটা সেন্টারের সরাসরি কুলিংয়ের পানি ধরা হয়, আবার কোনো হিসাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত পানিও যুক্ত করা হয়।
তুলনায় একটি সাধারণ গুগল সার্চে বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী প্রায় ০.২ থেকে ০.৬ মিলিলিটার পানি ব্যবহৃত হতে পারে।
বিদ্যুতের ব্যবহারও কম নয়
এআই মডেল পরিচালনায় শক্তিশালী সার্ভার প্রয়োজন হওয়ায় ডেটা সেন্টারগুলোতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হয়। শুধু সার্ভার চালানো নয়, সেগুলো ঠান্ডা রাখতেও বিদ্যুৎ প্রয়োজন।
আবার অনেক দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবহার রয়েছে। এসব কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি ঠান্ডা রাখতেও পানি লাগে। ফলে এআইয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঙ্গে পরোক্ষভাবে পানির ব্যবহারও বাড়তে পারে।
স্থানীয় পানির ওপর চাপ
ডেটা সেন্টারগুলো সাধারণত স্থানীয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, নদী বা ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করে। কোথাও কোথাও এসব পানির বড় অংশ মিঠাপানি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষিকাজের পানির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
এ কারণে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বিকল্প পানি ব্যবহারের দিকে নজর দিচ্ছে।
মাইক্রোসফট, গুগল ও অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠান পরিশোধিত বর্জ্যপানি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, সিঙ্গাপুরে তাদের ডেটা সেন্টারের প্রায় ৯৯ শতাংশ অ-পানযোগ্য পানি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
সমুদ্রের নিচে ডেটা সেন্টার
পানি ও শীতলীকরণ খরচ কমাতে সমুদ্রের নিচে ডেটা সেন্টার স্থাপনের ধারণাও সামনে এসেছে।
মাইক্রোসফট ২০১৮ সালে স্কটল্যান্ডের উপকূলে ‘প্রজেক্ট নেটিক’ নামে পরীক্ষামূলক একটি পানির নিচের ডেটা সেন্টার স্থাপন করেছিল। পরে প্রকল্পটি বাণিজ্যিকভাবে এগিয়ে নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।
অন্যদিকে চীনা প্রতিষ্ঠান হাইল্যান্ডার হাইনান দ্বীপের উপকূলে বাণিজ্যিক পানির নিচের ডেটা সেন্টার চালু করেছে বলে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
সমুদ্রের ঠান্ডা পানি ব্যবহার করে এসব স্থাপনায় সার্ভারের তাপ অপসারণ করা যায়। এতে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় পানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
পানি বাঁচাতে নতুন প্রযুক্তি
ডেটা সেন্টারে পানির ব্যবহার কমাতে ‘ক্লোজড-লুপ’ কুলিং ও ‘ইমারশন কুলিং’-এর মতো প্রযুক্তি নিয়েও কাজ হচ্ছে।
ক্লোজড-লুপ ব্যবস্থায় পানি বা বিশেষ তরল একটি বদ্ধ ব্যবস্থার মধ্যে ঘুরতে থাকে। ফলে বাষ্পীভবনের কারণে পানি হারানোর পরিমাণ কমে যায়।
অন্যদিকে ইমারশন কুলিংয়ে সার্ভারকে বিশেষ ধরনের বিদ্যুৎ-অপরিবাহী তরলের মধ্যে রাখা হয়। তবে এসব প্রযুক্তিরও খরচ বেশি এবং অতিরিক্ত বিদ্যুতের প্রয়োজন হতে পারে।
ফলে এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে পরিবেশগত প্রভাবও এখন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে। প্রযুক্তির সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পানি ও বিদ্যুতের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করাই ডেটা সেন্টার পরিচালনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিগারেটের দাম বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন, কোন স্তরে কত দাম
৪ ঘন্টা আগে
ঝটিকা মিছিলের পর ‘গুঁজা মোনাফ’ ও তার সহযোগী আটক
৪ ঘন্টা আগে
৪৭ বছরে গলেছে ১২.৫ ট্রিলিয়ন টন বরফ
৪ ঘন্টা আগে
এআই দিয়ে ছবি বানাতে এত পানি ও বিদ্যুৎ লাগে কেন?
৪ ঘন্টা আগে