ভারত থেকে ইলিশ আমদানি কেন, ঘাটতি মেটাবে নাকি নতুন প্রশ্ন তৈরি করবে?
বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা নিয়ে নানা আলোচনা চলার মধ্যেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানি শুরু হয়েছে। ‘আমার দেশ’-এর উপসম্পাদকীয়তে লেখক ফরিদা আখতার প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের জাতীয় মাছের ঘাটতি মেটাতে আমদানি কতটা কার্যকর এবং এর পেছনে দীর্ঘমেয়াদি কোনো নীতিগত পরিকল্পনা রয়েছে কি না।
প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত দুই মাসে ভারত থেকে কয়েক শ টন ইলিশ বাংলাদেশে এসেছে। আরও কিছু পরিমাণ ইলিশ আমদানির সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সীমিত পরিসরে ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
কেন ইলিশের প্রাপ্যতা কমছে?
লেখকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দেশে ইলিশ আহরণ কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অবৈধ জাল ও জাটকা আহরণ, নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া, প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্রে পরিবর্তন, নদীদূষণ এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত কর্মকাণ্ডের প্রভাবের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
মেঘনা-তেঁতুলিয়া মোহনা ইলিশের গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন ও বিচরণপথ। নদীতে চর ও ডুবোচর সৃষ্টি এবং পলি জমার কারণে পানির গভীরতা ও প্রবাহে পরিবর্তন আসছে বলেও লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অবৈধ আহরণ বড় চ্যালেঞ্জ
ইলিশের প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে জাটকা সংরক্ষণ এবং নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার বন্ধ করা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কারেন্ট জাল, ফাঁদজালসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ জাল ব্যবহারের কারণে জাটকা ও অন্যান্য মাছ ধরা পড়ছে বলে লেখায় দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া নদীতে শিল্পবর্জ্য ও প্লাস্টিকদূষণ এবং বিভিন্ন স্থাপনা ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজননে প্রভাব ফেলছে—এমন বিভিন্ন তথ্য ও মতামতও উপসম্পাদকীয়তে তুলে ধরা হয়েছে।
কয়েক শ টন আমদানি কি ঘাটতি পূরণ করবে?
লেখকের মতে, দেশে ইলিশের সামগ্রিক আহরণ কয়েক লাখ টনের তুলনায় ভারত থেকে আমদানি করা কয়েক শ টন মাছ খুব বড় ঘাটতি পূরণ করতে পারবে না। বরং ইলিশের উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনার মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধান না করে আমদানির ওপর নির্ভরতা তৈরি হলে দীর্ঘমেয়াদে প্রশ্ন থেকে যেতে পারে।
এ কারণে ইলিশ আমদানির পাশাপাশি দেশের নদী ও সমুদ্রের ইলিশসম্পদ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা, অবৈধ আহরণ বন্ধ এবং প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ইলিশ রপ্তানি নিয়েও প্রশ্ন
বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানি দীর্ঘদিন সীমিত বা বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন সময়ে বিশেষ অনুমতির মাধ্যমে ভারতে ইলিশ পাঠানো হয়েছে। উপসম্পাদকীয়তে ২০২৫ সালের দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন ও প্রকৃত রপ্তানির পরিমাণের পার্থক্যের উদাহরণও দেওয়া হয়েছে।
লেখকের যুক্তি হলো, ইলিশের মতো অর্থনৈতিক ও জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন মাছের ক্ষেত্রে আমদানি-রপ্তানি নিয়ে একটি সুস্পষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি থাকা প্রয়োজন। শুধু ব্যবসায়িক চাহিদা বা সাময়িক ঘাটতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে দেশের উৎপাদন, ভোক্তার চাহিদা ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের বিষয়গুলো একসঙ্গে বিবেচনা করা দরকার।
সমাধান কোথায়?
ইলিশের প্রাপ্যতা বাড়াতে শুধু মাছ আমদানি নয়, দেশের নিজস্ব ইলিশসম্পদ রক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন লেখক। নদীর নাব্যতা ও পানির পরিবেশ রক্ষা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ জাল বন্ধ এবং ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণে একাধিক মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন হতে পারে।
বাংলাদেশের মৎস্য খাত ও উপকূলীয় অর্থনীতিতে ইলিশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে ইলিশের সংকটকে শুধু বাজারে মাছের ঘাটতি হিসেবে না দেখে উৎপাদন, পরিবেশ, মৎস্যজীবীদের জীবিকা এবং জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি দীর্ঘমেয়াদি বিষয় হিসেবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
সিগারেটের দাম বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন, কোন স্তরে কত দাম
৩ ঘন্টা আগে
ঝটিকা মিছিলের পর ‘গুঁজা মোনাফ’ ও তার সহযোগী আটক
৩ ঘন্টা আগে
৪৭ বছরে গলেছে ১২.৫ ট্রিলিয়ন টন বরফ
৩ ঘন্টা আগে
এআই দিয়ে ছবি বানাতে এত পানি ও বিদ্যুৎ লাগে কেন?
৩ ঘন্টা আগে