গত ৪৭ বছরে পৃথিবীর দুই প্রধান বরফভূমি গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকা থেকে প্রায় ১২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন টন বরফ গলে গেছে। নতুন এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি Scientific Data জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, গলে যাওয়া এই বিপুল পরিমাণ বরফের পানি প্রায় ৩ দশমিক ১ সেন্টিমিটার বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে। এ ছাড়া সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার অন্যান্য কারণও রয়েছে।
বরফ গলার বড় কারণ উষ্ণ সমুদ্রের পানি
গবেষণায় দেখা গেছে, বরফ গলার বড় অংশ শুধু উষ্ণ বাতাসের কারণে হচ্ছে না। প্রায় পাঁচ-ষষ্ঠাংশ বরফের ক্ষয়ের সঙ্গে উষ্ণ সমুদ্রের পানির সম্পর্ক রয়েছে।
উষ্ণ পানি বরফের নিচের অংশ ও প্রান্তে প্রভাব ফেলছে। এতে হিমবাহ দ্রুত সরে গিয়ে সমুদ্রে প্রবাহিত হচ্ছে এবং বরফের ক্ষয় বাড়ছে। গবেষণার সহলেখক ও ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আরভাইনের বরফবিজ্ঞানী এরিক রিগনট বলেছেন, মেরু অঞ্চলের বরফ দ্রুত কমছে এবং এর সঙ্গে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাও বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ৫ ফুট বরফের স্তর!
১২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন টন বরফের পরিমাণ কতটা বিশাল, তা বোঝাতে গবেষকেরা একটি তুলনা দিয়েছেন। এই পরিমাণ বরফ গলানোর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের ওপর ছড়িয়ে দিলে সেখানে প্রায় ১ দশমিক ৫ মিটার বা ৫ ফুট গভীর বরফের স্তর তৈরি হতো।
১৯৭০ ও ৮০-এর দশকে পরিস্থিতি ছিল তুলনামূলক স্থিতিশীল
দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশক এবং ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার বরফের স্তর তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল।
পরবর্তী সময়ে বরফের ক্ষয় বাড়তে থাকে। বিশেষ করে ২০১০-এর দশকে বরফ গলার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে তীব্র হয়। গবেষণাটিতে ৪৫টি পৃথক জরিপ এবং ২৭টি স্যাটেলাইটের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।
কয়েক বছর গলার গতি কিছুটা কমেছিল
গবেষণায় ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বরফ ক্ষয়ের গতি কিছুটা কমে যাওয়ার একটি সময়ও দেখা গেছে। গবেষকদের মতে, এটি মূলত সাময়িক আবহাওয়াগত পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তবে ২০২৩ সালের পর আবার বরফ ক্ষয়ের প্রবণতা বাড়তে দেখা গেছে। অ্যান্টার্কটিকার কিছু অংশে বেশি তুষারপাত সাময়িকভাবে বরফের ক্ষয় কিছুটা সামাল দিলেও পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকায় বরফ কমার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা নিয়ে উদ্বেগ
গবেষকদের মতে, মেরু অঞ্চলের বরফ দ্রুত কমে যাওয়ার ফলে ভবিষ্যতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। এতে বিশ্বের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
গবেষণার প্রধান লেখক ইনেস ওতোসাকা বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা কয়েক সেন্টিমিটার বাড়াকেও ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রতিটি অতিরিক্ত সেন্টিমিটার বৃদ্ধির সঙ্গে আরও বেশি মানুষ নিয়মিত বন্যার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
উষ্ণায়ন বন্ধ হলেও প্রভাব চলতে পারে
গবেষণাসংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব বরফভূমিতে অনেক সময় কয়েক দশক পর স্পষ্ট হয়। ফলে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির হার কমিয়ে আনা গেলেও মেরু অঞ্চলের বরফের ক্ষয় কিছু সময় ধরে চলতে পারে।
গবেষকদের মতে, বরফের বড় অংশ দ্রুতগতির বা ‘ডাইনামিক’ প্রক্রিয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে। এই প্রবণতাই ভবিষ্যতে বরফস্তরের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
সিগারেটের দাম বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন, কোন স্তরে কত দাম
৩ ঘন্টা আগে
ঝটিকা মিছিলের পর ‘গুঁজা মোনাফ’ ও তার সহযোগী আটক
৩ ঘন্টা আগে
৪৭ বছরে গলেছে ১২.৫ ট্রিলিয়ন টন বরফ
৩ ঘন্টা আগে
এআই দিয়ে ছবি বানাতে এত পানি ও বিদ্যুৎ লাগে কেন?
৩ ঘন্টা আগে