গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট লংমার্চে মিটলে আমরাই আগে করতাম: প্রধানমন্ত্রী
গাড়ির লংমার্চ করে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান করা সম্ভব হলে বিএনপিই সবার আগে এমন কর্মসূচি দিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেন, সংকট সমাধানে সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছিল।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গত ২৭ আগস্ট শুরু হওয়া এই অধিবেশনে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, বিভিন্ন খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি এবং সরকারি ও বিরোধী দলের সম্পর্কসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
লংমার্চ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য
বিরোধী দলের লংমার্চ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে সরকার বিরোধী দলগুলোর সহযোগিতা আশা করেছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বড় আকারের গাড়ির লংমার্চ আয়োজনের মাধ্যমে সংকট সমাধানের পরিবর্তে জনগণের মধ্যে অযথা উত্তেজনা তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, লংমার্চের মাধ্যমে যদি গ্যাস বা বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা যেত, তাহলে তাঁর দলই আগে এমন কর্মসূচি আয়োজন করত।
সংকটের পেছনে যুদ্ধ ও এলএনজি টার্মিনালের দুর্ঘটনা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিরও প্রভাব রয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাস আমদানিতে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
এর মধ্যে বাংলাদেশের দুটি ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিটের (এফএসআরইউ) একটিতে দুর্ঘটনা ঘটায় সেটি অচল হয়ে পড়ে। এতে দেশে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে জানান তিনি।
দেশীয় গ্যাস উত্তোলনে আগের সরকারের সমালোচনা
দেশের নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ না নেওয়ার জন্য আগের সরকারের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বঙ্গোপসাগরের আশপাশের দেশগুলো সমুদ্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করলেও বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় তেমন কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে গ্যাসের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আমদানিনির্ভর করে ফেলা হয়েছিল। বর্তমান সরকার এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।
দুর্নীতি ও খেলাপি ঋণ নিয়েও কথা
সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় গ্যাস-বিদ্যুৎ, শিল্প, শিক্ষা ও ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বড় সমস্যা ছিল বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান।
তিনি আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে ধরেন এবং খেলাপি ঋণের পরিস্থিতির কথাও বলেন। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে খেলাপি ঋণের অনুপাত কমেছে এবং পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।
ভিন্নমত যেন শত্রুতায় না যায়
রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন ব্যক্তিগত শত্রুতায় পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও ভিন্নমত থাকবে। তবে বাক্স্বাধীনতার চর্চার পাশাপাশি শালীনতাও বজায় রাখতে হবে।
রাজনীতিতে গালাগালির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সংসদকে সমস্যা সমাধানের কেন্দ্র করতে চান
জাতীয় সংসদকে দেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষই দেশের ও জনগণের স্বার্থে কাজ করছে।
বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করার কথাও জানান তিনি। জনগণকে দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছে ১৮ প্রতিষ্ঠান
১১ ঘন্টা আগে
আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী
১১ ঘন্টা আগে
আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং
২০ ঘন্টা আগে
ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছে ১৮ প্রতিষ্ঠান
১১ ঘন্টা আগে