Wednesday, 11 February 2026

ব্রেকিং নিউজ:

‘একজন ভালো, বাকিরা খারাপ’—এই প্রচার গণতন্ত্রের জন্য হুমকি: তারেক রহমান

জাতীয় December 9, 2025 10:58 AM ১২০ দর্শক
‘একজন ভালো, বাকিরা খারাপ’—এই প্রচার গণতন্ত্রের জন্য হুমকি: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘একজন ভালো আর সবাই খারাপ—এ ধরনের প্রচার আওয়ামী লীগ আমল থেকে চলছে এবং দুঃখজনকভাবে ৫ আগস্টের পরও এর পরিবর্তন হয়নি। এটি গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। এই অবস্থার পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি—এটা হতেই হবে।’

রোববার রাতে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত ‘বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সামনের যুদ্ধটা অনেক কঠিন। ঐক্যবদ্ধ না থাকতে পারলে সামনে ভয়াবহ কিছু অপেক্ষা করছে।’ জাতীয় নির্বাচনের মনোনয়ন ঘিরে দলের ভেতরে যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, সে প্রেক্ষাপটে তিনি সবাইকে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও ঐক্যের আহ্বান জানান।

মনোনয়ন নিয়ে অসন্তোষ প্রসঙ্গে

ছাত্রদল নেতাদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘মনোনয়ন নিয়ে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের জায়গা থেকে সিদ্ধান্ত হয়নি। যেখানে যেটা ভালো মনে হয়েছে, সেটাই বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আপনার পছন্দের কেউ মনোনয়ন না পেতে পারেন—কিন্তু কাজ করতে হবে ধানের শীষের জন্য, দলের জন্য ও দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে মুখ্য প্রার্থী নয়, মুখ্য দল, প্রতীক এবং দেশের ভবিষ্যৎ।’

গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রব্যবস্থা

বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিএনপির বিশ্বাসের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রে সবার মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। কিন্তু একজন ভালো আর বাকি সবাই খারাপ—এ ধারণা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য ভয়ংকর।’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন করেছি, কারণ সেখানে জবাবদিহি ছিল না। গণতন্ত্রই একমাত্র ব্যবস্থা, যা রাষ্ট্রে ও সমাজে জবাবদিহি নিশ্চিত করে।’

বিএনপির কর্মপরিকল্পনা

তারেক রহমান জানান, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, কৃষি, কর্মসংস্থানসহ আটটি খাতে কীভাবে কাজ করবে—সে বিষয়ে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর জন্য ধারাবাহিক কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে।

এ কর্মসূচি শুক্রবার ছাড়া ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ওলামা দলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা এতে অংশ নেবেন। বুদ্ধিজীবী দিবস ও বিজয় দিবসের পর সমাপনী অনুষ্ঠান হবে।

জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে

জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের মাস্টারমাইন্ড কোনো ব্যক্তি নয়—এই আন্দোলনের নায়ক দেশের সাধারণ মানুষ। গৃহবধূ, মুদি দোকানদার, রিকশাচালক, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে দেশের সর্বস্তরের মানুষ এই আন্দোলনের মূল শক্তি।’

সভায় উপস্থিত নেতারা

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং সঞ্চালনা করেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল।

এতে বক্তব্য দেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জিয়াউদ্দিন হায়দার, তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি এস এম জিলানী, কৃষক দল সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ অন্যান্য নেতা।

দেশব্যাপী ছাত্রদলের ৭৫টি ইউনিটের সহস্রাধিক নেতা-কর্মী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুরূপ সংবাদ