উপকূলে মাসিক ও মাতৃত্ব স্বাস্থ্যঝুঁকিতে : উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের কিশোরীদের বড় একটি অংশ পানির অভাবে মাসিককালীন স্বাভাবিক স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে না পেরে নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক সংকটে ভুগছে। অনেক কিশোরী বাধ্য হয়ে মাসিক অনিয়মিত রাখতে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন করছে—এমন উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘জল নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তন: স্থানীয় জ্ঞান, বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, উপকূলীয় এলাকায় পরিষ্কার পানির সংকটে নারীদের স্বাস্থ্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কেবল ব্যক্তি-স্বাস্থ্য নয়, গর্ভবতী নারীদের মধ্যে ই–ক্ল্যাম্পসিয়ার মতো জটিলতাও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, যা ওই অঞ্চলে এখন সাধারণ সমস্যায় পরিণত হয়েছে।
তিনি জানান, পরিবারে পানির প্রধান জোগানদাতা নারী হলেও অনেক এলাকায় টানা তিন-চার দিন গোসলের মতো পানি পাওয়া যায় না। নিরাপদ পানি আনতে নারীদের কিলোমিটারের পর কিলোমিটার হাঁটতে হয়, ফলে সময়, শ্রম ও নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই তারা চরম সংকটে পড়ছেন।
জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিতের আহ্বান
রিজওয়ানা হাসান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জলবায়ু ন্যায্যতা, প্রযুক্তি সহায়তা ও ন্যূনতম আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী না হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশকে এর ভয়াবহ মূল্য দিতে হচ্ছে। প্রতিশ্রুত অর্থসহায়তার পরিবর্তে উন্নত দেশগুলো ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে—যাকে তিনি ‘দ্বিগুণ শাস্তি’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় অভিযোজনের একটি সীমা রয়েছে। উন্নত রাষ্ট্রগুলো যদি কার্বন নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে যত অর্থই দেওয়া হোক না কেন, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো টিকে থাকতে পারবে না।
পানি সংকট ও আন্তঃসীমান্ত বাস্তবতা
পানি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ একটি ‘লোয়ার রিপেরিয়ান’ দেশ হওয়ায় উজান দেশের পানিবণ্টন নীতির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ঢুকে বন্যা সৃষ্টি হলেও শুষ্ক মৌসুমে দেখা দেয় তীব্র পানি সংকট।
তিনি বলেন, হিমালয় অঞ্চল, গঙ্গা অববাহিকা ও দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সমানভাবে পড়ছে। শিগগিরই এই অঞ্চলের বহু দেশ ‘ওয়াটারলেস কান্ট্রি’ হওয়ার ঝুঁকিতে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
সরকারের উদ্যোগ
উপদেষ্টা জানান, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, নদী ও খাল পুনরুদ্ধার এবং উপকূলে স্বল্প ব্যয়ে ডেস্যালিনেশন প্ল্যান্ট স্থাপনে সরকার কাজ করছে। এসব প্ল্যান্ট পরিচালনায় স্থানীয় নারীদের যুক্ত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আজ পানি শুধু সম্পদ নয়, এটি ন্যায্যতার প্রশ্ন। উন্নয়ন ভাবনা, ভোগের ধরন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি পালনে পরিবর্তন না আনলে প্রকৃত অর্থে জলবায়ু ন্যায়বিচার সম্ভব নয়।”
সম্মেলনের অন্যান্য বক্তব্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, এই সম্মেলন থেকে জলবায়ু সংকট নিয়ে বাস্তবভিত্তিক সমাধানের দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সব সংকটে নেতৃত্ব দিয়েছে, জলবায়ু সংকটেও দেবে।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্টের এমডি গাজী মো. ওয়ালিউল হক, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম, ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. তৈয়বুর রহমান এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. আইনুন নিশাত। আন্তর্জাতিক অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নেপালের অধ্যাপক মধুসূদন সুবেদী ও ড. জাবলান আদানে।
অনুরূপ সংবাদ
ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করি: তারেক রহমান
দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী, বিভ্রান্তি দূর করতে তারেক রহমানের নির্দেশনা: নুরুল হক নুর
নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে সুদূরপ্রসারী রূপরেখা তুলে ধরলেন ডা. শফিকুর রহমান
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের
ঢাকা-১৫ আসন নিয়ে জামায়াত আমিরের সতর্কবার্তা
৩ সপ্তাহ আগে
জামায়াতের পলিসি সামিটে ৩০ দেশের প্রতিনিধি
৩ সপ্তাহ আগে