জামায়াত নেতাদের বেফাঁস বক্তব্যে বিতর্ক, দায়িত্ব এড়াতে চায় দল?
স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে দীর্ঘদিন তুলনামূলক নিরাপদ অবস্থানে থেকেই রাজনীতি করেছে জামায়াতে ইসলামী। তবে আওয়ামী লীগের টানা শাসনামলে দলটি সাংগঠনিকভাবে কোণঠাসা অবস্থায় পড়ে। সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে দলটি।
এই সুযোগে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড জোরদার করলেও একই সঙ্গে বাড়ছে শীর্ষ ও মাঠপর্যায়ের নেতাদের বিতর্কিত বক্তব্য। কখনো প্রশাসনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা, কখনো বিশ্ববিদ্যালয় ও সাংবাদিকতা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য—এসব নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর কিছু বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তিনি প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দেন এবং নিজেকে ‘চিটাগংয়ের গার্ডিয়ান’ হিসেবে উপস্থাপন করেন। এসব মন্তব্যের জেরে নাগরিক সমাজ ও পেশাজীবীদের একাংশ প্রকাশ্যে নিন্দা জানায়।
এছাড়া দলটির আরেক নেতা আমির হামজার বক্তব্যও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ওয়াজ মাহফিলে বিভিন্ন বিষয়ে তার মন্তব্য ধর্মীয় অনুভূতি এবং একাডেমিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে মনে করছেন অনেকে। এমনকি তার শিক্ষাগত পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
পরপর এমন ঘটনার পরও জামায়াতের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত প্রধানত সতর্কবার্তা ও ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ থাকা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, এতে নেতারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন কি না—সেই প্রশ্ন উঠছে জনমনে।
এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মুখপাত্র এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দলের কেউ কোনো ব্যক্তিগত বক্তব্য দিলে তার দায় সংগঠন নেবে না। তিনি জানান, দল নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনে কঠোর সিদ্ধান্তও নেবে।
তিনি বলেন, কেউ যদি ভুলের বিষয়টি সংশোধনে আগ্রহ না দেখায়, তাহলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, দলের নীতি ও আদর্শবিরোধী কোনো বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড জামায়াতের অবস্থানকে প্রতিফলন করে না। কেউ সীমা লঙ্ঘন করলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব নেতাকর্মীদের সতর্কতার সঙ্গে কথা বলা ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানালেও বিতর্ক থামছে না।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—এসব বক্তব্য জামায়াতের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি কতটা প্রভাবিত করবে এবং দল আদৌ শৃঙ্খলার প্রশ্নে কঠোর অবস্থানে যাবে কি না।
অনুরূপ সংবাদ
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠান
বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান - মুজিবুর রহমান
জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
রাজনীতিতে ফ্যাসিবাদী প্রবণতা এখনো রয়ে গেছে: শিবির সভাপতি
ঢাকা-১৫ আসন নিয়ে জামায়াত আমিরের সতর্কবার্তা
৩ সপ্তাহ আগে
জামায়াতের পলিসি সামিটে ৩০ দেশের প্রতিনিধি
৩ সপ্তাহ আগে