Wednesday, 11 February 2026

ব্রেকিং নিউজ:

মুজিববাদ ও মওদূদীবাদের বিরুদ্ধে বিএনপি–এনসিপির ‘দায়িত্বশীল ঐক্য’ প্রয়োজন: নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী

রাজনীতি December 2, 2025 09:39 PM ৭৮ দর্শক
মুজিববাদ ও মওদূদীবাদের বিরুদ্ধে বিএনপি–এনসিপির ‘দায়িত্বশীল ঐক্য’ প্রয়োজন: নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেছেন, শেখ মুজিবুর রহমান ও আবুল আ‘লা মওদূদীর মতাদর্শের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে ‘দায়িত্বশীল ঐক্য’ প্রতিষ্ঠা জরুরি। মঙ্গলবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটকে কেবল ব্যক্তি বা দলের ব্যর্থতা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি একটি গভীর রাষ্ট্রীয় সংকট, যা পরিবারতন্ত্র, দলীয় কর্তৃত্ববাদ ও বিদেশি প্রভাবের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তার মতে, এ সংকট কোনো নির্দিষ্ট নেতার নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত অবক্ষয়ের ফল।

বিএনপির অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিবারতন্ত্রের দুর্বলতা বহুদিন বিএনপিকে জর্জরিত করেছে। সময় এসেছে দলটি এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে রাজনৈতিক সংস্কারের পথে হাঁটার। বিএনপি যদি জনগণের রাজনীতিতে ফিরতে চায়, তাহলে দলীয় কাঠামোয় পরিবর্তন আনা ছাড়া বিকল্প নেই।

নাসীরুদ্দীনের মতে, বাংলাদেশের প্রকৃত সংকট কোনো একক রাজনৈতিক দল নয়, বরং দুটি আধিপত্যবাদী রাজনৈতিক ধারা—মুজিববাদ ও মওদূদীবাদ। তিনি দাবি করেন, গত পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার এক প্রকার রাজনৈতিক প্রক্সি লড়াইয়ের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। কখনো মুজিববাদ, কখনো মওদূদীবাদের প্রভাব রাষ্ট্র পরিচালনায় আধিপত্য বিস্তার করেছে। এর ফলে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, প্রশাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে।

শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নাসীরুদ্দীন বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের সামনে একটি নতুন রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু এই সময়ে ছাত্রশিবির বিভিন্ন সুবিধার বিনিময়ে ছাত্রসমাজকে জামায়াতের রাজনীতির দিকে ঠেলে দেয়, যার কারণে পুরনো প্রক্সি রাজনীতি আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে দাবি করেন তিনি।

বিএনপির সঙ্গে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, আজ দেশের সামনে দুটি বড় লড়াই—একদিকে মুজিববাদ ও মওদূদীবাদের কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম, অন্যদিকে একটি ন্যায়ভিত্তিক, আধুনিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার চ্যালেঞ্জ। এই দুটি সংগ্রাম কোনো একক দল একা সামলাতে পারবে না। তাই গণতান্ত্রিক জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, এই ঐক্যের জন্য বিএনপিকেও সংস্কারের পথে হাঁটতে হবে। দলটিকে পরিবারতন্ত্র থেকে বের হয়ে আসতে হবে এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। যারা বিদেশি প্রভাবের রাজনীতিতে যুক্ত, তাদেরও বাংলাদেশ কেন্দ্রিক রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি।

এনসিপির অবস্থান স্পষ্ট করে নাসীরুদ্দীন বলেন, বাংলাদেশের পুনর্গঠন, সার্বভৌমত্ব, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ, নাগরিক অধিকার, স্বাধীনতা ও মর্যাদা—এই চারটি বিষয়ে তাদের কোনো আপস নেই।

শেষে তিনি বলেন, বিএনপির সঙ্গে ঐক্য হোক বা না হোক, এনসিপি এই আদর্শিক সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। তার ভাষায়, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আটকে আছে দুটি ফ্যাসিবাদী প্রক্সির দখলে। এই আধিপত্য ভেঙে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে হলে দেশের প্রতিটি নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে। এই লড়াই কেবল ক্ষমতার নয়, এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ও আত্মপরিচয়ের সংগ্রাম।

অনুরূপ সংবাদ