বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এক সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্টে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের ভূঁয়সী প্রশংসা করেছেন। একইসঙ্গে বর্তমান সময়ে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান ও আচরণ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
নিজের পোস্টে জাহিদুল ইসলাম জানান, ছাত্রসংগঠক ও সচেতন নাগরিক হিসেবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে তিনি মুগ্ধ। এ মুগ্ধতার তিনটি কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন—জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক বিভাজনের দেয়াল ভেঙে জাতীয় ঐক্যের সূচনা করেছিলেন, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে সাহসী ছিলেন এবং পার্বত্য অঞ্চল বিষয়ে দূরদর্শী কৌশল গ্রহণ করেছিলেন।
বেগম খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শৈশব থেকেই দুই নেত্রীর নেতৃত্ব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। তার ভাষায়, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল নম্রতা ও সহনশীলতা। দেশ ও আদর্শের প্রশ্নে তিনি আপসহীন ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ২০০৭ সালের ১/১১ পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত তিনি খালেদা জিয়ার অবস্থানকে আপসহীনতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
খালেদা জিয়ার অসুস্থতা প্রসঙ্গে জাহিদুল ইসলাম বলেন, দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশবাসী যেভাবে দোয়া করছেন, তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরল দৃষ্টান্ত। এই পরিবর্তিত সময়ে তার দিকনির্দেশনা নতুন প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমানকে নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি তাকে একজন স্মার্ট রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেখেছেন এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তার কাছ থেকে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিলেন। তবে গত দেড় বছরে বিএনপির রাজনৈতিক ভূমিকা শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার আদর্শের সঙ্গে সুস্পষ্টভাবে মিলছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ অবস্থার পেছনে তারেক রহমানের ভূমিকা রয়েছে কি না, নাকি অন্য কোনো শক্তির প্রভাব কাজ করছে—তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতের পক্ষ থেকে বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বিএনপির ভেতর থেকে তাচ্ছিল্যের আচরণ করা হয়েছে। তার মতে, বিএনপি নিজেদের দেশের প্রধান ও একমাত্র বিরোধী শক্তি হিসেবে দেখাতে চাইছে, যা বাস্তবসম্মত নয়।
২০১৫ সালের কারাবাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জাহিদুল ইসলাম বলেন, সে সময় কারাগারে গিয়ে ছাত্রশিবির ও জামায়াতের পাশাপাশি বিএনপির অনেক নেতা-কর্মীর নির্মম নির্যাতনের চিত্র প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি দাবি করেন, গত ১৫ বছরে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি উভয়ের ওপরই দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। অথচ এর পরও বর্তমানে নীতিগত ঐক্যের ঘাটতি দুঃখজনক।
ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তারেক রহমান যেন কারও প্রভাবে পরিচালিত না হয়ে নিজস্ব সিদ্ধান্তে রাজনীতি করেন— এ প্রত্যাশা করেন তিনি। একইসঙ্গে দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে এমন কোনো রাজনীতি জনগণ গ্রহণ করবে না বলেও মন্তব্য করেন।
পোস্টের শেষাংশে জাহিদুল ইসলাম বলেন, শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার আদর্শ যতদিন বিএনপি ধারণ করতে পারবে, ততদিনই দলটি টিকে থাকবে। অন্যদিকে, বিদেশি আধিপত্যবাদী শক্তির সঙ্গে রাজনৈতিক সখ্য দেশের ক্ষতির কারণ হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
তিনি বলেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়— কেবল আদর্শ ও আচরণই মানুষের মনে নেতৃত্বকে স্থায়ী আসন দেয়।
অনুরূপ সংবাদ
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠান
বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান - মুজিবুর রহমান
জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
রাজনীতিতে ফ্যাসিবাদী প্রবণতা এখনো রয়ে গেছে: শিবির সভাপতি
ঢাকা-১৫ আসন নিয়ে জামায়াত আমিরের সতর্কবার্তা
৩ সপ্তাহ আগে
জামায়াতের পলিসি সামিটে ৩০ দেশের প্রতিনিধি
৩ সপ্তাহ আগে