Wednesday, 11 February 2026

ব্রেকিং নিউজ:

নতুন রাজনৈতিক জোটের পথে এনসিপি, এবি পার্টি ও আপ বাংলাদেশ

রাজনীতি November 26, 2025 10:13 PM ৮৪ দর্শক
নতুন রাজনৈতিক জোটের পথে এনসিপি, এবি পার্টি ও আপ বাংলাদেশ

এনসিপি, এবি পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও আপ বাংলাদেশকে ঘিরে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের তৎপরতা জোরদার হচ্ছে। পাশাপাশি গণঅধিকার পরিষদ ও গণতন্ত্র মঞ্চের কয়েকটি দলের সঙ্গেও জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে।

নেতৃত্ব পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, সম্ভাব্য এই জোটের নাম বিবেচনায় রয়েছে— ‘জুলাই জোট’, ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ অথবা ‘তৃতীয় ধারার সমমনা জোট’

জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনায় নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম

নতুন জোটের লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে—

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন

  • ধর্মীয় উগ্রবাদ ও রাজনৈতিক ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ

  • চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান

  • রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করা

জোটভুক্ত নেতারা জানিয়েছেন, এরই মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সাথেও নির্বাচনী সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা এগোচ্ছে।

‘আসন নয়, অঙ্গীকারই হবে মুখ্য’—এবি পার্টি চেয়ারম্যান

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “আমরা একসাথে নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে এখানে আসন ভাগাভাগি মুখ্য বিষয় নয়, বরং অঙ্গীকার বাস্তবায়নই হবে মূল ভিত্তি। পুরনো দলগুলোর মধ্যেও কেউ কেউ আছেন যারা জুলাই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন—এমন প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়ার বিষয়েও ভাবা হচ্ছে।”

‘জোট হলে সবকিছু একসাথেই হবে’—এনসিপি 

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন “ভিন্ন মতাদর্শ থাকলেও আমরা সেতুবন্ধনে যেতে চাই। জোট হলে সিদ্ধান্ত, কর্মসূচি ও নির্বাচন—সবকিছু একসাথেই হবে। এই জোট যাকে সমর্থন দেবে, তাদের সরকারি ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। তাই সংস্কার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে এই জোট গণভোটের উদ্যোগ নেবে। তবে ভবিষ্যৎ সরকার যেন সংসদ দিয়ে সংস্কার প্রক্রিয়া পেছনে ঠেলে না দেয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা হচ্ছে।

৩০০ আসনে প্রার্থী, তবে প্রতীক নিয়ে অনিশ্চয়তা

জোটভুক্ত দলগুলো জানায়, সমঝোতার ভিত্তিতে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। তবে সব দল নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত নয়— তাই কোন প্রতীকে নির্বাচন হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

আপ বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, “প্রতীক নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। দলীয় ফোরামে বিষয়টি তোলা হবে। আপাতত লক্ষ্য—একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করা।”

এদিকে মুজিবুর রহমান মঞ্জু জানান, “কেউ নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচন করতে পারে, আবার সবাই এক হয়ে এক প্রতীকেও লড়তে পারে—এটি পরিস্থিতি ও আইনি বাস্তবতার ওপর নির্ভর করবে।”

‘নতুন ফ্যাসিবাদের উত্থান ঠেকাতে হবে’—নেতারা

জোটের নেতারা দৃঢ়ভাবে জানান, ভবিষ্যতে নতুন কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে—এই জোট সে বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। তারা দাবি করেন, এই জোট শুধু নির্বাচনী প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং গণতন্ত্র রক্ষায় একটি চাপ সৃষ্টিকারী শক্তি হিসেবে কাজ করবে।

অনুরূপ সংবাদ