মহাকাশে কী ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র?
মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে কী ধরনের অস্ত্র কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে, এর ক্ষমতা কতটা এবং ঠিক কখন এটি মোতায়েন করা হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি দেশটি।
মার্কিন বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক সম্প্রতি মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের এক অনুষ্ঠানে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি জানান। তাঁর ভাষ্য, শত্রুর আক্রমণ থেকে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে এ ধরনের কক্ষপথভিত্তিক অস্ত্র প্রয়োজন হয়েছে।
কী ধরনের অস্ত্র হতে পারে?
মার্কিন কর্তৃপক্ষ অস্ত্রটির প্রকৃতি প্রকাশ না করলেও যুক্তরাজ্যের ডারহাম ইউনিভার্সিটির অ্যাস্ট্রোপলিটিকসের সহযোগী অধ্যাপক ব্লেডিন বোয়েনের ধারণা, এটি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা রেডিও জ্যামিং প্ল্যাটফর্ম হতে পারে।
এ ধরনের প্রযুক্তি অন্য স্যাটেলাইটের রেডিও যোগাযোগে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। অর্থাৎ এটি সরাসরি কোনো স্যাটেলাইট ধ্বংস না করেও তার কার্যক্রম ব্যাহত করতে সক্ষম হতে পারে।
স্যাটেলাইট ধ্বংসের অস্ত্রও রয়েছে
মহাকাশে সামরিক সক্ষমতার আরেকটি ধরন হলো কাইনেটিক কিল ভেহিকেল। এ ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহার করে কোনো মহাকাশযান বা স্যাটেলাইটকে সরাসরি আঘাত করে ধ্বংস করা সম্ভব।
এ ছাড়া ক্লোজ-ইন্সপেকশন ও গ্র্যাপলিং স্যাটেলাইটের মাধ্যমে অন্য স্যাটেলাইটকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ কিংবা ধরে ফেলার সক্ষমতাও তৈরি করা যায়। এসব প্রযুক্তি সামরিক ব্যবহারের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ বা স্পেস ডেব্রি পরিষ্কার করতেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
রাশিয়া ও চীনের সক্ষমতা
মহাকাশে সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে রাশিয়া ও চীনও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। বিভিন্ন সময়ে দেশ দুটি রেনডেভু ও প্রক্সিমিটি অপারেশন বা আরপিও পরিচালনা করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষক রড থর্নটনের মতে, কিছু স্যাটেলাইট অন্য স্যাটেলাইটের কাছাকাছি গিয়ে তাদের কক্ষপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম হতে পারে। রাশিয়া অতীতে কো-অরবিটাল অস্ত্রের পরীক্ষাও চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন জার্মানির বিজ্ঞান ও রাজনীতি ফাউন্ডেশনের গবেষক জুলিয়ানা সুয়েস।
মহাকাশে বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ঘোষণা বড় কোনো নতুন প্রযুক্তিগত অগ্রগতির চেয়ে একটি রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। চীনের সামরিক আধুনিকায়ন এবং মহাকাশে স্যাটেলাইটের সংখ্যা বাড়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের অন্যতম কারণ বলে তাঁরা মনে করছেন।
তবে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের ফলে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি নতুন করে বিপুল পরিমাণ মহাকাশবর্জ্য তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে। একটি স্যাটেলাইট ধ্বংস হলে তার অসংখ্য ধ্বংসাবশেষ অন্য স্যাটেলাইটের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অনুরূপ সংবাদ
মক্কায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার হুতিদের, সৌদি দাবিকে ‘মিথ্যা’ বললেন নেতারা
হেগের রায়ের পরও ভারত-পাকিস্তান বিরোধ, সিন্ধু পানি চুক্তির ভবিষ্যৎ কী
হুতিদের সঙ্গে গোপন বৈঠকে মার্কিন কর্মকর্তারা, কী আলোচনা হলো
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ৪ বছরের বেশি থাকার নীতি স্থগিত
নমিনির পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা ৮০ বছর করার সিদ্ধান্ত
২২ ঘন্টা আগে
জনগণেরও ক্ষমতা দেখানোর ইতিহাস আছে: গোলাম পরওয়ার
২২ ঘন্টা আগে