ড. ইউনূস সরকারের মুখোশ উন্মোচন করলেন সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ওই পোস্টে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের ‘পুনরুত্থান’ প্রসঙ্গের পাশাপাশি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, নীতি ও আদর্শিক অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের ভেতরকার একজন শীর্ষ ব্যক্তির এমন বক্তব্য অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিগত টানাপোড়েন এবং বিভিন্ন খাতের ব্যর্থতার চিত্রকে জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে।
ড. ইউনূসের বিদায়ের পর সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতের কিছু অবহেলা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা আসলেও, এই প্রথম সরকারেরই একজন সাবেক প্রভাবশালী উপদেষ্টা সরাসরি প্রশাসনের নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন।
’৭১ বনাম ’২৪ এবং ডানপন্থার উত্থান
মাহফুজ আলম তাঁর দীর্ঘ পোস্টে লিখেছেন, "লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন ’২৪-কে ’৭১-এর বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিল স্বাধীনতার বিরুদ্ধের শক্তি।" সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্থাপনা ভাঙচুর এবং মহান মুক্তিযুদ্ধকে অবমূল্যায়ন করার যে প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, এই বক্তব্যে তারই প্রতিফলন ঘটেছে।
পোস্টের অন্য অংশে তিনি উল্লেখ করেন, "লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন থেকে ডানপন্থিদের উত্থানের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের লোকজন কাজ করা শুরু করেসে।" সাবেক এই উপদেষ্টা তাঁর লেখায় গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের ওপর হামলা, ঐকমত্য কমিশনের জনবিচ্ছিন্নতা, বিচার বিভাগ ও ট্রাইব্যুনালে দলীয়করণ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তৈরি হওয়া নৈরাজ্যসহ প্রায় দুই ডজন নেতিবাচক বিষয়ের কথা স্বীকার করেছেন।
তীব্র প্রতিক্রিয়া ও মিশ্র মন্তব্য
পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে মিশ্র ও কড়া প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, মাহফুজ আলম নিজে সরকারের অংশ থাকা অবস্থায় কেন পদত্যাগ বা এসবের প্রতিবাদ করেননি।
শামসুন নাহার হল সংসদের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ (ইমি) এই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে লেখেন, "লীগ সেদিনই ব্যাক করসে, যেদিন ৩২ ভাঙতে গেসিলা। লীগ সেদিনই ব্যাক করসে যেদিন এনসিপির কারণে গোপালগঞ্জে ৫ খুন হয়। এই দুইটা পয়েন্ট বাদ পড়সে।"
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা আবু বাকের মজুমদার মন্তব্যে উল্লেখ করেন, "উপদেষ্টাদের কারও কারও অর্থ কেলেঙ্কারির বিষয়টা মিস গেছে ভাই। ওইটা যদি একটু অ্যাড করতেন।"
অন্যদিকে, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য মাহতাব উদ্দীন আহমেদ সরাসরি মাহফুজের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, "যে ইন্টেরিমের (অন্তর্বর্তী সরকার) সমালোচনা এখন করছেন, তখন যখন আপনি নিজেও এই সরকারের অংশ ছিলেন, আপনি পদত্যাগ করেন নাই কেন—এইটার জবাবও কিন্তু পাওনা। যখন দেখলেন ইন্টেরিম উগ্র ডানপন্থিদের পেট্রন (পৃষ্ঠপোষকতা) করছে, তখন তো আটকাতে না পারার ব্যর্থতা নিয়েই সততার সাথে ইন্টেরিম থেকে সরে যেতে পারতেন। সেটা না করে আপনি আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা হারাইছেন।"
নেপথ্য সমীকরণ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজ আলমকে জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান তাত্ত্বিক মনে করা হয়। আন্দোলনের সময় পর্দার আড়ালে থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর ড. ইউনূস তাঁকে প্রথমে বিশেষ সহকারী এবং পরবর্তীতে তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব দেন। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস নিজে মাহফুজকে আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, পরবর্তী সময়ে প্রধান উপদেষ্টা ও সরকারের অন্য প্রভাবশালী অংশীদারদের সাথে মাহফুজ আলমের দূরত্ব তৈরি হয়। তাঁর এই সাম্প্রতিক পোস্টের পর রাজনৈতিক মহলে এই প্রশ্নটি বড় হয়ে উঠেছে যে, অন্তর্বর্তী সরকার কি আসলেই ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করছে।
অনুরূপ সংবাদ
হঠাৎ জামায়াত আমীরের আবেগঘন পোস্ট
২ দিন আগে
রামিসা হত্যাকাণ্ডে বেরিয়ে এলো ভয়াবহ তথ্য
২ দিন আগে
কর দেওয়া লাগবে না যেসব মোটরসাইকেলে
২ দিন আগে