রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর মাথা কেটে হত্যার লোমহর্ষক ঘটনাটি পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এই চরম বর্বরোচিত অপরাধের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এর স্থায়ী সমাধানে আল্লাহর আইন তথা ‘শরীয়া আইন’ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন দেশের দুই শীর্ষ জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী ও শায়খ আহমাদুল্লাহ।
আজ বুধবার (২০ মে) রাতে নিজের অফিশিয়াল ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী লেখেন—
“কিছু অপরাধ শুধু আইন ভঙ্গ করে না, মানবতাকেও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। একটি কন্যাশিশুর নির্মম বিদায় আজ পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে! যার বিচার শুধু আইনের নয়, গোটা মানবতার দাবি।”
আরও পড়ুন : রামিসা হত্যাকাণ্ডে বেরিয়ে এলো ভয়াবহ তথ্য
ভবিষ্যতের শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ সমাজ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই নির্মমতার দ্রুত বিচার ও কঠোরতম শাস্তি এখন সময়ের দাবি উল্লেখ করে আজহারী তাঁর পোস্টে আরও মন্তব্য করেন, “কেবলমাত্র আল্লাহর আইনই পারে সমাজ থেকে এসব বর্বরতা চিরতরে নির্মূল করতে।”
‘ওরা মানুষ নয়, নরপিশাচ’: শায়খ আহমাদুল্লাহ
এর আগে আজ বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন—
“সাত বছরের মেয়েও যাদের কাছে নিরাপদ না, মানুষ নয় তারা নরপিশাচ। এইসব নৃশংসতার মাত্রা কমিয়ে আনার একমাত্র সমাধান শরিয়া আইন।”
দুই ইসলামিক স্কলারেরই দাবি, বর্তমান বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা ও দুর্বল আইনের কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে, যার ফলে শিশু ও নারীদের ওপর এই ধরনের বিকৃত পাশবিকতা দিন দিন বাড়ছে। একমাত্র ইসলামি আইন ও জনসমক্ষে দ্রুত কঠোর শাস্তি কার্যকর করার মাধ্যমেই সমাজ থেকে এই ধরনের অপরাধ দূর করা সম্ভব।
নেপথ্যে সেই শিউরে ওঠার মতো নৃশংসতা
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর পল্লবীর একটি আবাসিক ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে স্থানীয় পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারের মস্তকবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতি থেকে তার খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের তদন্ত ও চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, অবুঝ শিশুটি প্রতিবেশীর বিকৃত যৌন লালসা ও গণধর্ষণের শিকার হয়েছিল। ধর্ষণের পর তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও নির্যাতনের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়ে ঘাতকরা তাকে প্রথমে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরবর্তীতে আলামত গোপন ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রামিসার মাথা ও হাত শরীর থেকে কেটে আলাদা করা হয়।
এই চরম লোমহর্ষক ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মো. জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা আজ বুধবার আদালতে হাজির হয়ে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বর্তমানে শ্রীঘরে রয়েছে এবং মামলার পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের চিরুনি অভিযান চলছে। তবে খুনিরা ধরা পড়লেও নিষ্পাপ রামিসার এই বেদনাবিধুর বিদায় দেশের সাধারণ মানুষ ও নেটিজেনদের বিবেককে চরমভাবে নাড়া দিয়েছে।
অনুরূপ সংবাদ
আওয়ামী লীগ ব্যাক করেনি, ব্যাক করেছে তাদের দম্ভ ও মিথ্যাচার: আসিফ নজরুল
বিগত ১৯ বছরে বগুড়ায় কোনো উন্নয়ন হয়নি, হচ্ছে আধুনিক বিমানবন্দর: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী
খাল ও নদী খননের মাধ্যমেই ভূমিকম্প মোকাবেলা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের অপমৃত্যু ঘটানো হয়েছে: জামায়াত আমির
কন্যাশিশুর মৃত্যু ঘিরে আবেগঘন বার্তা আজহারির
৮ ঘন্টা আগে
রামিসা হত্যাকাণ্ডে বেরিয়ে এলো ভয়াবহ তথ্য
৮ ঘন্টা আগে
পে স্কেল নিয়ে নিশ্চিত অগ্রগতি, বাস্তবায়নের ইঙ্গিত
১০ ঘন্টা আগে
এবার বিচার বিভাগ নিয়ে জামায়াত আমীরের পোস্ট ভাইরাল
১৪ ঘন্টা আগে
রামিসা হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করল পুলিশ
১৬ ঘন্টা আগে
হঠাৎ জামায়াত আমীরের আবেগঘন পোস্ট
১৮ ঘন্টা আগে
কর দেওয়া লাগবে না যেসব মোটরসাইকেলে
২০ ঘন্টা আগে
এবার বিচার বিভাগ নিয়ে জামায়াত আমীরের পোস্ট ভাইরাল
১৪ ঘন্টা আগে
রামিসা হত্যাকাণ্ডে বেরিয়ে এলো ভয়াবহ তথ্য
৮ ঘন্টা আগে