বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য অনলাইন বদলি প্রক্রিয়া চালু করে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম যোগদানের পর চাকরিকাল ন্যূনতম ২ বছর পূর্ণ হলেই একজন শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ শীর্ষক এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া স্বাক্ষরিত এই নতুন নীতিমালা জারির ফলে পূর্বের ২০২৫ সালের নীতিমালাটি আনুষ্ঠানিকভাবে রহিত (বাতিল) করা হলো।
সবকিছু হবে অনলাইনের স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারে
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ সব স্তরের এমপিওভুক্ত শিক্ষকের বদলি কার্যক্রম এখন থেকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ উপায়ে অনলাইনের একটি স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। এক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর প্রথমে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্য পদের বিবরণ অনলাইনে প্রকাশ করে আগ্রহী শিক্ষকদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করবে।
বদলি আবেদনের প্রধান প্রধান শর্তাবলি:
-
ন্যূনতম সময়কাল: একবার বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর সেখানে ন্যূনতম ২ বছর চাকরি সম্পন্ন না করে পুনরায় বদলির আবেদন করা যাবে না।
-
সর্বোচ্চ সুযোগ: একজন শিক্ষক বা কর্মচারী তাঁর সমগ্র চাকরিকাল বা কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন।
-
প্রতিষ্ঠানের পছন্দ: আবেদনকারী শিক্ষক আবেদনের সময় তাঁর কাঙ্ক্ষিত সর্বোচ্চ ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পছন্দক্রম হিসেবে উল্লেখ করতে পারবেন।
-
পারস্পরিক বদলি: বিশেষ ক্ষেত্রে পারস্পরিক বদলির (Mutual Transfer) জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদনের বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে।
-
আবেদনের অযোগ্যতা: কোনো শিক্ষকের এমপিও (MPO) স্থগিত, সাময়িক বরখাস্ত বা কোনো ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে তিনি বদলির যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।
অগ্রাধিকার নির্ধারণের ৪টি বিশেষ সূচক
নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো একটি নির্দিষ্ট শূন্য পদের বিপরীতে যদি একাধিক আবেদনকারী শিক্ষক থাকেন, তবে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারে কয়েকটি নির্দিষ্ট সূচকের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। সূচকগুলো হলো: ১. নারী শিক্ষক (তাঁরা অগ্রাধিকার পাবেন)। ২. দূরত্ব (বর্তমান কর্মস্থল থেকে দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে, যেখানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দূরত্ব পরিমাপক মডেল ব্যবহার করা হবে)। ৩. স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থল (যদি স্বামী বা স্ত্রী সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা অন্য কোনো এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকেন)। ৪. চাকরির জ্যেষ্ঠতা (অভিজ্ঞতা ও যোগদানের তারিখ)।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সীমাবদ্ধতা ও এলাকা নির্বাচন
নীতিমালায় বলা হয়েছে, একটি প্রতিষ্ঠান থেকে এক বছরে সর্বোচ্চ দুজন শিক্ষক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বদলির সুযোগ পাবেন। তবে শিক্ষার ক্ষতি এড়াতে একই বিষয়ের (Subject) একজন শিক্ষকের বেশি একই বছর বদলি করা যাবে না।
আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষকরা প্রথমে তাঁদের মূল চাকরির আবেদনে উল্লেখ করা নিজ জেলায় বদলির জন্য অগ্রাধিকার পাবেন। তবে নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে, নিজ বিভাগের যেকোনো জেলায় আবেদন করা যাবে।
বদলির চূড়ান্ত অনুমোদন কর্তৃপক্ষ
নতুন নীতিমালায় দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, আন্তঃজেলা (একই বিভাগের ভেতর) শিক্ষক বদলির বিষয়টি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন আঞ্চলিক পরিচালকরা দেখভাল করবেন। তবে আন্তঃবিভাগ (এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগ) বদলিসহ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের বদলির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
ডিজিটাল এই অটোমেশন পদ্ধতির কারণে কারিগরি শিক্ষকদের বদলি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা অনিয়ম ও দালালি চক্রের দৌরাত্ম্য সম্পূর্ণ বন্ধ হবে বলে আশা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষকদের বদলির আবেদন নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
৩ ঘন্টা আগে
ঢাবি ছাত্রদল নেতা হামিমের অব্যাহতি প্রত্যাহার
৯ ঘন্টা আগে
গোপালগঞ্জে রিকশা চুরির অপবাদে চালককে পিটিয়ে হত্যা
১২ ঘন্টা আগে
‘উড়ে এসে জুড়ে বসিনি, ধমক দিয়ে লাভ নেই’: মির্জা ফখরুল
১২ ঘন্টা আগে
রামিসা হত্যাকাণ্ডে বেরিয়ে এলো ভয়াবহ তথ্য
১ দিন আগে
হঠাৎ জামায়াত আমীরের আবেগঘন পোস্ট
১ দিন আগে
কর দেওয়া লাগবে না যেসব মোটরসাইকেলে
১ দিন আগে
রামিসা হত্যাকাণ্ডে বেরিয়ে এলো ভয়াবহ তথ্য
১ দিন আগে