লেবাননে ‘যুদ্ধবিরতি’র পর ২২০ হিজবুল্লাহ সদস্যকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের
লেবাননে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় ঘোষিত তথাকথিত যুদ্ধবিরতি চলাকালেই গত তিন সপ্তাহে ২২০ জন হিজবুল্লাহ সদস্যকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ)। বৃহস্পতিবার (৭ মে) ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আভিচাই আদরাই এক বিবৃতিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান।
ইসরায়েলি অভিযানের পরিসংখ্যান
বিবৃতিতে আভিচাই আদরাই বলেন, গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে গত এক সপ্তাহেই ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৮৫ জন হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ সময় লেবাননজুড়ে গোষ্ঠীটির ১৮০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে হামলা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এই যুদ্ধবিরতি মূলত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা খর্ব করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ ছিল। তবে ইসরায়েলের দেওয়া এই নিহতের সংখ্যা নিয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বেসামরিক প্রাণহানি ও মানবিক বিপর্যয়
ইসরায়েল হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের হত্যার দাবি করলেও লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বেসামরিক মানুষের ব্যাপক প্রাণহানির চিত্র তুলে ধরেছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন মধ্যস্থতায় তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ শুরুর পর থেকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ও বৈরুতের বিভিন্ন এলাকায় হামলা আরও তীব্র হয়েছে। ফলে এই সময়ের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু প্রাণ হারিয়েছে বলে জানা গেছে।
চুক্তি নিয়ে বিতর্ক
গত এপ্রিলে ঘোষিত এই যুদ্ধবিরতিকে আন্তর্জাতিক মহলে ‘তথাকথিত’ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ চুক্তি পরবর্তী সময়েও লেবানন সীমান্তে হামলা ও পাল্টাহামলা থামেনি। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল এই চুক্তিকে হিজবুল্লাহর ওপর একতরফা হামলার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, যার ফলে লেবাননে মানবিক সংকট দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
হঠাৎ তাসনিম জারার বিস্ফোরক স্ট্যাটাসে তোলপাড়
৩ ঘন্টা আগে
তেলের বাজারে বড় পরিবর্তনের আভাস
২ দিন আগে