Monday, 04 May 2026

ব্রেকিং নিউজ:

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ রক্ষায় একজোট অস্ট্রেলিয়া ও জাপান

আন্তর্জাতিক May 4, 2026 02:11 PM ৩৪ দর্শক
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ রক্ষায় একজোট অস্ট্রেলিয়া ও জাপান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে টালমাটাল বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও জাপান। সোমবার (৪ মে) অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈশ্বিক সংকটে নতুন সমীকরণ:

বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, "ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ধাক্কা এবং ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় আমাদের দুই দেশ এখন আগের চেয়েও বেশি ঐক্যবদ্ধ। বৈশ্বিক বাণিজ্যের অস্থিতিশীলতা রোধে আমরা একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করছি।"

হরমুজ প্রণালি ও এশীয় বাজারে উদ্বেগ:

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, ইরান নিয়ন্ত্রিত হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। জরুরি ভিত্তিতে এই সংকট মোকাবিলায় দুই দেশ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করবে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (IEA) তথ্যমতে, বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। যার প্রায় ৮০ শতাংশের গন্তব্য থাকে এশিয়ার দেশগুলো। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান এই রুটে জাহাজ চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করায় এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

পারস্পরিক নির্ভরতা ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্য:

জ্বালানি খাতে অস্ট্রেলিয়া ও জাপান একে অপরের ঘনিষ্ঠ অংশীদার। জাপানের ব্যবহৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) বৃহত্তম সরবরাহকারী দেশ অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার মোট ডিজেল চাহিদার প্রায় ৭ শতাংশ মেটায় জাপান।

বৈঠকে দুই নেতা একমত হন যে, সরবরাহ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোই এখন প্রধান লক্ষ্য। খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রেও এই সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুরূপ সংবাদ