সাতক্ষীরায় ছাত্ররাজনীতি: ছাত্রদল নিষ্ক্রিয়, শিবিরের দাপট
সাতক্ষীরায় দীর্ঘদিন জেলা কমিটি না থাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কার্যত সাংগঠনিক সংকটে পড়েছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে নতুন নেতৃত্ব না আসায় মাঠপর্যায়ে দলটির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৩ জুন শেখ সজিবুজ্জামান সজিবকে সভাপতি ও মমতাজুল ইসলাম চন্দনকে সাধারণ সম্পাদক করে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়। পরে ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ওই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এতে কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির অনুমোদন দেন।
তবে কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার এক বছর ছয় মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন কমিটি ঘোষণা না হওয়ায় জেলায় ছাত্রদলের কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে নেতৃত্বশূন্যতা। তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, কার্যকর ‘চেইন অব কমান্ড’ না থাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং দলীয় ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই সাংগঠনিক শূন্যতার সুযোগে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির জেলার শিক্ষাঙ্গন ও রাজপথে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। নিয়মিত কর্মসূচি ও সাংগঠনিক উপস্থিতির কারণে ছাত্রশিবিরের প্রভাব দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মী জানান, সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে গ্রুপিংয়ে ব্যস্ত থাকায় রাজপথে সংগঠনের উপস্থিতি কমে গেছে। এক নেতা বলেন, “কার ডাকে কর্মসূচিতে যাব, সেটিই বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে।” তারা দ্রুত নতুন কমিটি ঘোষণার দাবি জানান।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মঞ্জরুল আলম বাপ্পী বলেন, দুঃসময়ে যারা মাঠে ছিলেন এবং সংগঠনকে টিকিয়ে রেখেছেন, তাদের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব নির্বাচন করা উচিত। তার মতে, দ্রুত কমিটি ঘোষণা হলে দায়িত্ব বণ্টন ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন আরও সুসংগঠিত হবে।
জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু রায়হান বলেন, শক্তিশালী নেতৃত্বের অভাবে সংগঠনে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত নতুন কমিটি গঠন করা হলে কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ফিরে আসবে এবং সংগঠনটি আবার সক্রিয় অবস্থানে ফিরতে পারবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এবং দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।