ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি, প্রশ্নের মুখে সমন্বয়
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব কর্মসূচির আগে নির্দিষ্ট স্থান ও সময় সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ায় পুলিশ আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেনি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে দৈনিক ইনকিলাব।
আগাম তথ্য না পাওয়ার দাবি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গুলশানে বড় ধরনের মিছিল হবে—এমন সুনির্দিষ্ট আগাম তথ্য তাদের কাছে ছিল না। সাধারণত এনএসআই, এসবি, সিআইডি, ডিএমপির গোয়েন্দা ইউনিট ও থানার সিভিল ইউনিটসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে তথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ করা হয়।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাধারণত সম্ভাব্য কর্মসূচির আগে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও নজরদারি বাড়ানো হয়। তবে গুলশানের ঘটনায় এমন ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়নি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মিছিলের পর গ্রেপ্তার
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুলশানে মিছিলের পর ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আশপাশের এলাকা থেকে ৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, মিছিলের পরিকল্পনা গুলশানের বাইরে থেকে করা হয়ে থাকতে পারে। পরে বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন এসে সেখানে জড়ো হয়ে দ্রুত মিছিল করে সরে যাওয়ায় আগাম তথ্য সংগ্রহ কঠিন হয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন
মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের পর তা যথাসময়ে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে পৌঁছেছিল কি না, কিংবা তথ্য থাকার পরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুক্রবারের ঘটনাগুলো নিয়ে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা কর্মসূচি পালনের বিষয়টিকে আইনশৃঙ্খলার জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন তাঁরা।
রিজভীর প্রশ্ন
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, এতসংখ্যক মানুষ কীভাবে প্রকাশ্যে সংগঠিত হয়ে মিছিল করল এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগে থেকে তা জানতে পেরেছিল কি না—এ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তবে রিজভীর বক্তব্য রাজনৈতিক দলের একজন নেতার মন্তব্য হিসেবে এসেছে; এর সত্যতা বা সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ
পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিষিদ্ধঘোষিত দলের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। কোথাও গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি থাকলে তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের আকস্মিক কর্মসূচি ঠেকাতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অনুরূপ সংবাদ
‘খালি ভারত ভারত না করে নিজের দেশের চিন্তা করেন’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা ঘুষ-লুটপাটে জড়িত: স্পিকার
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আরও দুর্নীতির অভিযোগ, অনুসন্ধানে দুদক
নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে শেভরনকে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বেনাপোল দিয়ে দুই মাসে সাড়ে ৩ লাখ কেজি ইলিশ আমদানি
১০ ঘন্টা আগে
সংকট মোকাবিলায় সরকারের অদক্ষতা স্পষ্ট: হামিদুর রহমান
১১ ঘন্টা আগে
অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা ঘুষ-লুটপাটে জড়িত: স্পিকার
১১ ঘন্টা আগে