সৌদিতে হুতিদের হামলা: মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রথম বড় পরীক্ষা
ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে। সৌদি আরবে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দর ও বাব আল-মানদেবের কাছে পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে হুতিরা। এসব ঘটনাকে সৌদি আরবের জন্য যেমন বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে, তেমনি সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
মোখা ও পেরিমের কৌশলগত গুরুত্ব
মোখা বন্দর বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছাকাছি অবস্থিত। ফলে বন্দর ও পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে গেলে লোহিত সাগর দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ওপর তাদের প্রভাব বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে সৌদি আরবের তেল পরিবহনে লোহিত সাগর গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হয়ে উঠেছে। এই পথেও যদি নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে, তাহলে সৌদি তেল রপ্তানি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে।
মক্কা চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন
সৌদি আরব আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে বহুপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় তুরস্ক ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে মক্কায় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
কিন্তু হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার পর সেই প্রতিরক্ষা কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্ক বা পাকিস্তান ইয়েমেনের যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয়নি এবং পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে মক্কা চুক্তি ইয়েমেন যুদ্ধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
ইরানের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ
কলামটির লেখকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হুতিদের সামরিক অগ্রযাত্রার সবচেয়ে বড় কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে ইরান। হুতিদের সঙ্গে তেহরানের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। সৌদি আরবের তেল পরিবহনের বিকল্প সমুদ্রপথে চাপ তৈরি হলে ইরান আঞ্চলিক সংঘাতে বাড়তি কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে হুতিদের প্রতিটি সামরিক সিদ্ধান্ত সরাসরি ইরানের নির্দেশে হচ্ছে—এমন দাবি নিশ্চিত তথ্য হিসেবে না দেখে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে দেখা প্রয়োজন।
সামরিক সমাধান নাকি রাজনৈতিক সমঝোতা?
হুতিদের বিরুদ্ধে শুধু বিমান হামলা চালিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান পাওয়া কঠিন হতে পারে বলে বিশ্লেষণে মত দেওয়া হয়েছে। কারণ, ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পেছনে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন কারণ রয়েছে।
লেখকদের মতে, সামরিক চাপের পাশাপাশি রাজনৈতিক সমঝোতার পথ খোলা রাখা প্রয়োজন। সৌদি আরব, ইয়েমেন সরকার এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে একটি বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি করা গেলে সংঘাতের বিস্তার ঠেকানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে
হরমুজ ও বাব আল-মানদেব—মধ্যপ্রাচ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ঘিরে একসঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হলে তা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
হুতিদের সাম্প্রতিক সামরিক সাফল্য তাই ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সীমা ছাড়িয়ে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষণে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বেনাপোল দিয়ে দুই মাসে সাড়ে ৩ লাখ কেজি ইলিশ আমদানি
১০ ঘন্টা আগে
সংকট মোকাবিলায় সরকারের অদক্ষতা স্পষ্ট: হামিদুর রহমান
১১ ঘন্টা আগে
অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা ঘুষ-লুটপাটে জড়িত: স্পিকার
১১ ঘন্টা আগে