নাসীরুদ্দীন ইস্যুতে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রাশেদ খাঁনের
ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা ভিন্ন মাত্রায় মোড় নিয়েছে। এই ঘটনাকে ‘বিএনপি সরকার পতনের আন্দোলন করার উদ্দেশ্যে জামায়াত-শিবিরের সাজানো নাটক’ এবং ‘নাসিরকে হত্যার চেষ্টা’ কি-না—তা নিয়ে প্রকাশ্য প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে তিনি এনসিপি নেতার সঙ্গে থাকা অস্ত্রধারীদের ছাত্রশিবিরের কর্মী বলে দাবি করেছেন।
গতকাল শুক্রবার (২২ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন এই গুরুতর অভিযোগ ও প্রশ্ন তোলেন।
রাশেদ খাঁনের ফেসবুক পোস্ট ও অভিযোগ
এর আগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এই হামলার পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের আইনমন্ত্রী এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি রাশেদ খাঁনের নাম জড়িয়ে যে অভিযোগ করেছিলেন, তার জবাবে রাশেদ খাঁন লেখেন:
"ঝিনাইদহে অস্ত্রধারী দু'জন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটিতে। বর্তমানে তারা শিবিরের রাজনীতি করে। অথচ সারজিস আলম পোস্ট করলো, এই সন্ত্রাসীরা নাকি নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীকে হত্যা চেষ্টা করে। তাহলে জামায়াত-শিবির নাসিরকে কেন, কী উদ্দেশ্যে হত্যার চেষ্টা করলো? বিষয়টা কি এমন যে, নাসিরকে হত্যা করে জামায়াত-শিবির বিএনপি সরকার পতনের আন্দোলন করতে চেয়েছিলো?"
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পূর্বের রাজনৈতিক অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিএনপি এই নেতা আরও লেখেন, "বিষয়টা নাসীরুদ্দীনের উপলব্ধি করা উচিত। আগে সে জামায়াত-শিবিরকে ভারতের এক্সটেনশন, ভণ্ড, প্রতারক, সংস্কারবিরোধী এমনকি দলের নাম পরিবর্তন ও কেন জামায়াতের সঙ্গে ইসলাম নাম ব্যবহার করে ইত্যাদি বলেছে। সেই ক্ষোভ মেটাতে এবং বিএনপির ওপর দায় চাপানোর রাজনীতি করছে না তো জামায়াত-শিবির?"
ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের সাথে তুলনা
রাশেদ খাঁন তাঁর পোস্টে অতীতে ঘটে যাওয়া এক ঘটনার উদাহরণ টেনে দাবি করেন, আইনমন্ত্রী, জেলা পরিষদের প্রশাসক কিংবা তাঁর ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং সত্য উন্মোচিত হয়েছে। তিনি লেখেন, "ঠিক ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের পরে এভাবেই মির্জা আব্বাস ভাইয়ের ওপর দায় চাপাতে চেয়েছিল। কিন্তু দেখা গেল খুনিরা হাদী ভাইয়ের সাথেই ছিল। ঠিক আজকের অস্ত্রধারীরাও নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর সাথে ছিল। শহীদ ওসমান হাদীর ঘটনার সাথে আজকের ঘটনা হুবহু মিলে যাচ্ছে।"
চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহের পৌর কালেক্টর জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বাদানুবাদ ও পাল্টাপাল্টি কাদা-ছোড়াছুড়ি চলছে।
১. এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী নেতাদের দাবি:
পুলিশ প্রশাসনের সামনেই ছাত্রদল-যুবদল ও বিএনপির সন্ত্রাসীরা হকিস্টিক ও ইট-পাটকেল নিয়ে এই হামলা চালিয়েছে।
২. জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান:
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থি বলে উল্লেখ করেছেন।
৩. বিএনপি ও ছাত্রদলের অবস্থান:
ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এবং বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁনের দাবি—নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সেখানে ‘মব’ বা বিশৃঙ্খলা করতে গিয়েছিলেন এবং সাধারণ জনতা তাঁকে প্রতিরোধ করেছে। উল্টো এনসিপি নেতার সাথে থাকা অস্ত্রধারী দুই যুবককে ‘শিবির কর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এই পাল্টাপাল্টি ও জটিল রাজনৈতিক সমীকরণের পর ঝিনাইদহ জেলা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় থানা ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
অনুরূপ সংবাদ
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে : গোলাম পরওয়ার
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড মধ্যযুগীয়’ মন্তব্যের প্রতিবাদ গোলাম পরওয়ারের
‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মব করতে গিয়েছিলেন, ডিম মেরেছে জনতা’: নাছির