Wednesday, 06 May 2026

ব্রেকিং নিউজ:

শাপলা চত্বরের কথা বলতে জাতিকে ১৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে: জবি উপাচার্য

ক্যাম্পাস May 6, 2026 01:18 AM ২৭ দর্শক
শাপলা চত্বরের কথা বলতে জাতিকে ১৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে: জবি উপাচার্য

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন বলেছেন, “শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা বলতে জাতিকে দীর্ঘ ১৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তৎকালীন রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক শক্তির দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড জাতির জন্য একটি গভীর ক্ষত।”

মঙ্গলবার (৫ মে) শাপলা গণহত্যা দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সেমিনার কক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শহীদদের ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান:

উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, সেদিন যারা নবী করিম (সা.)-এর সম্মান রক্ষায় ও ধর্মীয় অনুভূতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁরা সাহসী ও দৃঢ়চেতা মানুষ ছিলেন। তিনি শহীদদের প্রকৃত ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরার এবং এই ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

দমন-পীড়ন ও নীরবতার সমালোচনা:

অনুষ্ঠানের মূল আলোচক, শিক্ষক ও লেখক আলী হাসান উসামা ২০১৩ সালের ৫ মে রাতের অন্ধকারে পরিচালিত অভিযানের প্রেক্ষাপট ও ১৩ দফা দাবি নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, “পিলখানা ও শাপলা চত্বরের ঘটনার পর পর্যাপ্ত প্রতিবাদ না হওয়ায় তৎকালীন পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছিল। ঘটনার পর বিভিন্ন পক্ষের নীরবতা সত্য উদ্ঘাটনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।” শহীদদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ না হওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজ না নেওয়ায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

গবেষণার গুরুত্বারোপ:

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দল এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে নিবিড় গবেষণার প্রয়োজন। এর মাধ্যমেই প্রকৃত তথ্য ও শহীদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ সম্ভব বলে তিনি মত দেন।

জকসুর অবস্থান:

জকসু ভিপি মোঃ রিয়াজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম আরিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তারা ভবিষ্যতে যেন কোনো স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী শক্তি পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে, সে বিষয়ে ছাত্রসমাজকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

অনুরূপ সংবাদ