Wednesday, 06 May 2026

ব্রেকিং নিউজ:

সরিষাবাড়ীতে ফুয়েল কার্ডের ফরম জমা নিতে কৃষকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ

সারাদেশ May 6, 2026 01:09 AM ২৫ দর্শক
সরিষাবাড়ীতে ফুয়েল কার্ডের ফরম জমা নিতে কৃষকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ

দেশব্যাপী চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে কৃষকদের সেচ ও ফসল উৎপাদন সচল রাখতে সরকারের নেওয়া ‘ফুয়েল কার্ড’ উদ্যোগ সরিষাবাড়ীতে বিতর্কের মুখে পড়েছে। উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জুয়েল রানার বিরুদ্ধে ফুয়েল কার্ডের ফরম জমা নেওয়ার নামে কৃষকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

কৃষকদের অভিযোগ:

ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, ফুয়েল কার্ডের ফরম জমা দেওয়ার সময় ‘অনলাইন খরচ’ বা আবেদন প্রক্রিয়ার নাম করে প্রতি কৃষকের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। চরাঞ্চলের কৃষকরা জানান, টাকা না দিলে ফরম গ্রহণ করা হচ্ছে না। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে জগন্নাথগঞ্জ ঘাটের ‘রানা এন্টারপ্রাইজ’ এবং কাওয়ামারা এলাকার ‘আলমের দোকান’সহ কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে ফরম ও টাকা জমা দেওয়ার অলিখিত নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, এভাবে প্রায় ২০০ জন কৃষকের কাছ থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য:

কাওয়ামারা এলাকার ব্যবসায়ী আলম মিয়া টাকা সংগ্রহের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “কৃষি কর্মকর্তা জুয়েল ভাই আমার দোকানে ফরম ও টাকা জমা দিতে বলেছিলেন। আমি শুধু সেগুলো সংগ্রহ করে তাঁর কাছে পৌঁছে দিয়েছি। টাকা কেন নেওয়া হচ্ছে, তা আমি জানি না।” অন্যদিকে, রানা এন্টারপ্রাইজের মালিক আব্দুল গণি মিয়া জানান, তাঁর দোকানের কর্মচারীর মাধ্যমে ফরম জমা নেওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন।

অভিযুক্ত কর্মকর্তার সাফাই:

টাকা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জুয়েল রানা বলেন, “আমি ওইভাবে টাকা নেইনি। অনেক কৃষক ফরম পূরণ করতে পারেন না, তাই ফরম কেনা ও পূরণের খরচ বাবদ মাত্র ২০ থেকে ৩০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।” তবে ১০০ টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া:

এই অনিয়মের বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অনুপ সিংহ বলেন, “কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগটি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখছি। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

জ্বালানি সংকটের এই কঠিন সময়ে সরকারি সহায়তার ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অনুরূপ সংবাদ