যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি: তীব্র বিতর্ক ও রাজনৈতিক নীরবতার নেপথ্যে কী?
নির্বাচনের মাত্র ৭২ ঘণ্টা আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সই করা ‘যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। অর্থনীতিবিদরা একে ‘অধীনতার চুক্তি’ বলে অভিহিত করলেও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর রহস্যময় নীরবতা ও কৌশলী অবস্থান জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
চুক্তি বাতিলের দাবি ও অর্থনীতিবিদদের উদ্বেগ
প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এই চুক্তিকে বাংলাদেশের জন্য আত্মঘাতী বলে মন্তব্য করেছেন। গত ১৭ এপ্রিল শাহবাগের এক সমাবেশে তিনি বলেন, “এই চুক্তি বহাল থাকলে দেশ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারাবে এবং লাখ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারাবে।” তিনি এই চুক্তি সই করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের বিচার দাবি করেছেন এবং জাতীয় সংসদে এটি প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়েছেন।
একইভাবে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা গত ২৯ এপ্রিল সংসদে পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়িয়ে চুক্তিটি বাতিলের দাবি জানান। তিনি বলেন, “একটি অনির্বাচিত সরকার নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন আগে এমন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই করতে পারে না।” চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য তিনি অবিলম্বে সংসদে তোলার জোর দাবি জানান।
জামায়াত ও এনসিপি-র কৌশলী অবস্থান
চুক্তিটি নিয়ে শুরু থেকেই বিরোধী দলগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সরকারের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন পর্যন্ত চুক্তির বিরুদ্ধে কোনো ‘প্রকাশ্য প্রতিরোধ’ গড়ে তোলেনি।
-
জামায়াত: দলটির আমির শফিকুর রহমান চুক্তির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। তবে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, দলের আমির বিদেশ থেকে ফেরার পর তারা আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানাবেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, এই চুক্তির বিষয়ে হয়তো বিএনপি আগে থেকেই অবগত ছিল।
-
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): দলটির কূটনীতি সেলের সম্পাদক আলাউদ্দিন মোহাম্মদ জানান, তারা চুক্তির প্রসেসকে যথাযথ মনে করেন না। তবে তিনি এ-ও বলেন যে, চুক্তির সব শর্তই খারাপ নয়। ভারতকে ছাপিয়ে বৈশ্বিক অংশীদারত্বের ডাইভার্সিফিকেশন বা বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাদের দাবি, বিএনপি ও জামায়াত এই চুক্তির প্রক্রিয়ার সঙ্গে ‘অ্যালাইন’ বা একমত ছিল।
সরকারের বক্তব্য: সংশোধনের সুযোগ আছে
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এই চুক্তি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন। সম্প্রতি মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি জানান, চুক্তিতে এমন ধারা রয়েছে যার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী কিছু থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তবে চুক্তি বাতিল করা হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি সরাসরি কোনো উত্তর দেননি।
অশনি সংকেত দেখছে ইসলামী আন্দোলন
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই চুক্তিকে ‘একতরফা বাধ্যবাধকতা’ ও ‘জাতি ও অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত’ বলে অভিহিত করেছে। দলটির মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের স্বার্থ বিসর্জনে সরকার ও বিরোধী দলগুলো একমত হওয়া জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক।
প্রেক্ষাপট: শুল্ক যুদ্ধের ফল এই চুক্তি?
গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলে তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি খাতে বড় সংকট তৈরি হয়। দীর্ঘ দর-কষাকষির পর শুল্ক কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এই চুক্তি সই করা হয়। ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ এই চুক্তির পক্ষে থাকলেও এর গোপনীয়তা ও রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে।
দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রশ্নে এই চুক্তি শেষ পর্যন্ত বহাল থাকে নাকি সংশোধন বা বাতিলের পথে হাঁটে সরকার, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
অনুরূপ সংবাদ
বাংলাদেশ সফরে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কী কী থাকছে আলোচনায়?
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রদ্ধা
দক্ষিণ এশিয়ায় সংখ্যালঘুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হবে বাংলাদেশ: নাহিদ ইসলাম
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ড. ইফতেখারুজ্জামানের সাক্ষাৎ: দুর্নীতি রোধে টিআইবি’র একগুচ্ছ পরামর্শ
মাদকসহ বিএনপি নেতার ছেলে আটক
৪ ঘন্টা আগে
মশাবাহিত বিরল রোগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের মৃত্যু
৪ ঘন্টা আগে
এবার নেতাদের উদ্দেশ্যে কঠোর বার্তা দিলেন বিএনপি
১৬ ঘন্টা আগে
নতুন ভাইরাস ‘হান্টাভাইরাস’ নিয়ে সতর্কবার্তা
১৭ ঘন্টা আগে
হঠাৎ এনসিপির নেত্রী মাহমুদা আলম মিতুর পোস্ট
১৭ ঘন্টা আগে
হঠাৎ এনসিপির নেত্রী মাহমুদা আলম মিতুর পোস্ট
১৭ ঘন্টা আগে
তেলের বাজারে বড় পরিবর্তনের আভাস
১ দিন আগে
ফজলুর রহমানকে ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
২৩ ঘন্টা আগে
এবার নেতাদের উদ্দেশ্যে কঠোর বার্তা দিলেন বিএনপি
১৬ ঘন্টা আগে