Wednesday, 06 May 2026

ব্রেকিং নিউজ:

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ‘ঊন মানুষ’ বিবেচনা করে নির্যাতন করা হয়েছে: আখতার হোসেন

জাতীয় May 6, 2026 01:12 AM ৩০ দর্শক
মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ‘ঊন মানুষ’ বিবেচনা করে নির্যাতন করা হয়েছে: আখতার হোসেন

২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার সব ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা মূল পরিকল্পনাকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। মঙ্গলবার (৫ মে) এনসিপি কার্যালয়ে আয়োজিত ‘শাপলা গণহত্যা থেকে জুলাই’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ দাবি জানান।

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের প্রেক্ষাপট:

আখতার হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “২০১৩ সালে যখন শাপলা চত্বরে অভিযান চালানো হয়, তখন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের একরকম ‘ঊন মানুষ’ (Sub-human) হিসেবে বিবেচনা করে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। তাঁদের ওপর মোটা লাঠি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়েছে। এদেশের সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মূলধারা থেকে আলাদা করে দেখার একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রজেক্ট থেকেই এই বর্বরতা চালানো হয়েছিল।”

মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর ভূমিকা:

শাপলা চত্বরে নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক ও তথ্য গোপনের চেষ্টার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সে সময় মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ শহীদের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশের সাহস দেখিয়েছিল। এই সত্য তুলে ধরার কারণে সংগঠনটির ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং এর কর্ণধারদের গ্রেফতার করে কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল।”

জুলাই আন্দোলনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন:

বিগত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণকে আলাদাভাবে মূল্যায়নের দাবি জানিয়ে আখতার হোসেন বলেন, “জুলাই আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেকেরই কোটা বা চাকরির মতো ব্যক্তিগত স্বার্থের বিষয় ছিল। কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের এই ইস্যুতে কোনো বৈষয়িক স্বার্থ ছিল না। একেবারে স্বার্থহীনভাবে তাঁরা স্রেফ দেশ ও জাতিকে ফ্যাসিস্ট কাঠামো থেকে মুক্ত করতে রাজপথে নেমেছিলেন। তাঁদের এই নিঃস্বার্থ অবদান জাতীয় ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।”

বিচারের দাবি:

সেমিনারে বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, শাপলা চত্বর থেকে শুরু করে জুলাই পর্যন্ত যতগুলো দমন-পীড়নের ঘটনা ঘটেছে, তার প্রত্যেকটির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।

অনুরূপ সংবাদ