সাবেক স্ত্রী দ্বিতীয় বিয়ে করায় ১৪ বছরের ছেলেকে হত্যার দায় স্বীকার বাবার
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ১৪ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্র মো. নাঈমকে শ্বাসরোধে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন তার বাবা ইব্রাহীম খলিল। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেছেন, সাবেক স্ত্রী দ্বিতীয় বিয়ে করায় প্রতিশোধ নিতে ছেলেকে হত্যা করেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইব্রাহীম খলিল ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় নিহত নাঈমের মা ফাতেমা আক্তার বাদী হয়ে ইব্রাহীম খলিলকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।
ধানখেতের পাশের রাস্তা থেকে মরদেহ উদ্ধার
পুলিশ ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে নাঈম নানার বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিল। পরদিন ভোরে তাকে ঘরে পাওয়া যায়নি। পরে মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্য বাগ্যা গ্রামে নানাবাড়ির প্রায় ১০০ গজ দূরে ধানখেতের পাশের রাস্তা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নাঈমের মা-বাবার প্রায় তিন বছর আগে বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে নাঈম মায়ের সঙ্গে নানাবাড়িতে থাকত এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত।
দ্বিতীয় বিয়ের পর হুমকির অভিযোগ
পুলিশ জানায়, নাঈমের মা প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর সাবেক স্ত্রীকে নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ইব্রাহীম খলিল তাঁকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, নাঈমকে শ্বশুরবাড়ি থেকে ডেকে এনে শ্বাসরোধে হত্যার কথা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন ইব্রাহীম। পরে আদালতেও তিনি একই বিষয়ে জবানবন্দি দেন।
দাফনের সময় থানায় নেওয়া হয়
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পেয়ার প্রথম আলোকে বলেন, নাঈমের মৃত্যুর পর তাঁর বাবা আত্মগোপনে ছিলেন। পরে দাফনের সময় কৌশলে তাঁকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
পুলিশের মতে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে সাবেক স্ত্রীর দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ক্ষোভ কাজ করেছে বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন ইব্রাহীম খলিল।
অনুরূপ সংবাদ
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর শপথ নেওয়ার পর পুলিশের হাতে আটক
সুনামগঞ্জে নবীনবরণকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, আহত ২০
জিয়াউল আহসান কিছু অস্ত্র-গুলি দিয়ে রেখেছিলেন, হিসাব হতো না: সাবেক র্যাব কর্মকর্তা