জিয়াউল আহসান কিছু অস্ত্র-গুলি দিয়ে রেখেছিলেন, হিসাব হতো না: সাবেক র্যাব কর্মকর্তা
র্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক থাকাকালে বরিশালের র্যাব-৮ কার্যালয়ে সাবেক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান অতিরিক্ত কিছু অস্ত্র ও গুলি দিয়ে রেখেছিলেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জেরায় জানিয়েছেন সাবেক র্যাব কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমান ওসমানী।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জিয়াউল আহসানের আইনজীবীর জেরায় সাব্বির রহমান বলেন, র্যাবের অভিযানে ব্যবহৃত গুলি সাধারণত রেজিস্টারে হিসাব করা হতো। তবে জিয়াউল আহসান যে অতিরিক্ত অস্ত্র ও গুলি দিয়ে রেখেছিলেন, সেগুলোর কোনো হিসাব রাখা হতো না বলে তিনি দাবি করেন।
১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার আলামত থেকে আনার দাবি
সাক্ষীর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই অতিরিক্ত অস্ত্র ও গুলি ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় জব্দ করা আলামত থেকে আনা হয়েছিল। তবে ওই মামলায় কী ধরনের অস্ত্র জব্দ হয়েছিল, সে বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত জানা নেই বলে জানান সাব্বির রহমান।
তিনি ২০০৯ সালের অক্টোবরে র্যাব-৮ বরিশালে উপ-অধিনায়ক হিসেবে যোগ দেন এবং ২০১৩ সাল পর্যন্ত সেখানে দায়িত্ব পালন করেন।
আলকাছ মাঝিকে ‘এলিমিনেট’ করার নির্দেশের দাবি
জেরায় সাব্বির রহমান আরও বলেন, জিয়াউল আহসানের কাছ থেকে আলকাছ মাঝিকে ‘এলিমিনেট’ করার নির্দেশ পাওয়ার পর তিনি বিষয়টি কোনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাননি। তাঁর ভাষ্য, নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থেকেই তিনি বিষয়টি প্রকাশ করেননি।
এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর দেওয়া জবানবন্দিতে সাব্বির রহমান দাবি করেছিলেন, ২০১১ সালের জুনে জিয়াউল আহসান তাঁকে ফোন করে আলকাছ মাঝির বিষয়ে জানতে চান। পরে তাঁকে ‘এলিমিনেট’ করার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সাক্ষী দাবি করেন।
নিখোঁজের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান হয়নি
সাক্ষী জানান, আলকাছ মাঝি নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তাঁর স্ত্রী র্যাবের কাছে জিডির অনুলিপি জমা না দেওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অনুসন্ধান করা হয়নি। তবে তাঁর মোবাইলের কললিস্ট ধরে অনুসন্ধানের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
জেরায় সাব্বির রহমান আরও বলেন, ২০১১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটের শরণখোলা রেঞ্জের ধইঞ্চাবাড়ী এলাকায় র্যাব-৮-এর অভিযান হয়েছিল কি না, কিংবা তিনি সেখানে ছিলেন কি না—তা তাঁর মনে নেই।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার ঘটনায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলছে। সাব্বির রহমান এ মামলার ১৩তম সাক্ষী। তিনি ১৭ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন এবং বৃহস্পতিবার আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. সাহিদুর রহমান তাঁকে জেরা করেন।
মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসান বর্তমানে গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন এবং এদিন তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।