সাভারে বাসে অগ্নিসংযোগ: বাসমালিক, সাংবাদিকসহ ৪০ জনের নামে মামলা
ঢাকার সাভারে সড়কের পাশে থামিয়ে রাখা একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বাসমালিক, সাংবাদিকসহ ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্বাস উদ্দিন বাদী হয়ে সোমবার রাতে বিস্ফোরক আইনে মামলাটি করেন। মামলার এজাহারে আসামিদের স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মী, সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে যা বলা হয়েছে
মামলার এজাহার অনুযায়ী, সোমবার রাত ২টা ৪০ মিনিটের দিকে সাভারের রেডিও কলোনি ইউটার্ন এলাকায় পুলিশ জানতে পারে, কয়েকজন ব্যক্তি একটি বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে আগুন দেওয়ার জন্য জড়ো হয়েছেন।
পুলিশ সেখানে গিয়ে ৬০ থেকে ৭০ জনকে একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করতে দেখেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অধিকাংশ ব্যক্তি মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসে এবং অন্যরা আশপাশের সড়ক দিয়ে পালিয়ে যান বলে মামলায় বলা হয়েছে। পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়।
বাসমালিক ও সাংবাদিকও আসামি
মামলার আসামিদের মধ্যে হাবিবুর রহমান ওরফে হৃদয় নামের এক ব্যক্তিকে সাভার পরিবহনের মালিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁকে সাবেক সংসদ সদস্য মুরাদ জংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সাংবাদিক মো. কামরুজ্জামানকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে। তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) স্থায়ী সদস্য ও একটি সংবাদমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। কামরুজ্জামান দাবি করেছেন, তিনি ঢাকায় থাকেন এবং বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
একজন গ্রেপ্তার
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার রাতেই সাভারের আকরাইন বাজার এলাকা থেকে সাভার সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে অগ্নিসংযোগের কথা স্বীকার করেছেন।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেছেন, তদন্তে কারও বিরুদ্ধে জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়া গেলে তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।
সাংবাদিককে আসামি করায় ডিআরইউর প্রতিবাদ
সাংবাদিক কামরুজ্জামানকে মামলায় আসামি করায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ কী রয়েছে, তা মামলায় স্পষ্ট নয়।
ডিআরইউ যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য প্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
অনুরূপ সংবাদ
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর শপথ নেওয়ার পর পুলিশের হাতে আটক
সাবেক স্ত্রী দ্বিতীয় বিয়ে করায় ১৪ বছরের ছেলেকে হত্যার দায় স্বীকার বাবার
সুনামগঞ্জে নবীনবরণকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, আহত ২০