Wednesday, 11 February 2026

ব্রেকিং নিউজ:

২০০ আসনে জিতলেও জাতীয় সরকারই গঠন করবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান

জাতীয় December 9, 2025 11:35 AM ১৪২ দর্শক
২০০ আসনে জিতলেও জাতীয় সরকারই গঠন করবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দলটি নির্বাচনে ২০০ আসনে বিজয়ী হলেও দেশের স্বার্থ ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে জাতীয় সরকার গঠন করবে।

রোববার রাজধানীর গুলশানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত ও বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে বাদ দেব না। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন নিশ্চিত ও দুর্নীতি দমনে আগামী পাঁচ বছর জাতীয় সরকার প্রয়োজন।”

ইইউ প্রতিনিধিদের প্রশ্নে জামায়াতের অবস্থান

বৈঠকে ইইউ প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গা সংকট, নাগরিক নিরাপত্তা, নির্বাচনি ইশতেহার এবং নির্বাচন-পরবর্তী ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে জানতে চান। জবাবে জামায়াত আমির তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, ক্ষমতায় গেলে দলটি রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।

নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে নয়

নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ভোটারদের সচেতনতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি দুটি প্রক্রিয়া আলাদা দিনে করার পক্ষে মত দেন।

তিনি আরও বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই এবং সময়মতো নির্বাচন হওয়াই কাঙ্ক্ষিত।

পিআর পদ্ধতির প্রতি অঙ্গীকার

সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক (পিআর) ভোটব্যবস্থা চালুর পক্ষে জামায়াতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি জনগণের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার একটি কার্যকর মাধ্যম। ক্ষমতায় গেলেও এই ব্যবস্থার বাস্তবায়নে তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবেন।

ধর্ম নিয়ে বক্তব্য

রাজনীতিতে ধর্ম ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ধর্ম তাঁদের চিন্তা ও দর্শনের অংশ, কোনো রাজনৈতিক হাতিয়ার নয়। “আমরা ধর্মকে কাজে লাগাই না। যারা নির্বাচনের সময় টুপি-তসবিহ দেখিয়ে মানুষকে প্রভাবিত করতে চায়, তারাই ধর্মকে ব্যবহার করে”—বলেন জামায়াত আমির।

উপস্থিত ছিলেন বিদেশি কূটনীতিকরা

ইইউ প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন—
রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন, জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোট্স, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, ফ্রান্সের উপরাষ্ট্রদূত ফ্রেদেরিক ইনজা, নেদারল্যান্ডসের উপররাষ্ট্রদূত থাইস উডস্ট্রা এবং ইইউর উপররাষ্ট্রদূত গং বেইবা জেরিনা। এছাড়া ইইউ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি সেবাস্টিয়ান রাইগার-ব্রাউনও উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, অধ্যাপক মোকাররম হোসেন, জুবায়ের আহমেদ এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান।

ব্রুনাই হাইকমিশনারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ

এর আগে সকালে বসুন্ধরায় জামায়াত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রুনাইয়ের হাইকমিশনার হাজি হারিস বিন ওসমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ফার্স্ট সেক্রেটারি রোজাইমি আবদুল্লাহ।

সাক্ষাৎকালে ২০২৪ সালের গণবিপ্লবসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জামায়াতের ভূমিকা তুলে ধরা হয়। দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

অনুরূপ সংবাদ