জাসদ কার্যালয়ে বৈঠক, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী সন্দেহে আটক ২৬০
রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল—জাসদের (ইনু) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক চলাকালে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সন্দেহে ২৬০ জনের বেশি ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গুলিস্তানের শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউয়ের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় জাসদের কার্যালয়ে এ অভিযান চালানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান এবং গোপন বৈঠক চলার খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকশ মানুষ জাসদের কার্যালয়ে আসতে শুরু করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে সভা শুরু হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হকাররা কার্যালয়ের ভেতর থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান শুনতে পান। পরে তারা ভবনের দ্বিতীয় তলায় গেলে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভবনটি ঘিরে ফেলে। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা অভিযান শেষে ২৬০ জনের বেশি ব্যক্তিকে আটক করে পল্টন ও শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়। আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, বৈঠকে নাশকতার কোনো পরিকল্পনা করা হচ্ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আটকদের বিষয়ে দেশের বিভিন্ন থানায় তথ্য পাঠানো হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্যকেও আটক করা হয়। তিনি জাসদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আটক অবস্থায় দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে সূর্য দাবি করেছেন, তিনি সেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলেন।
অন্যদিকে জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন দাবি করেছেন, সেখানে কোনো গোপন বৈঠক নয়, দলের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। তাঁর দাবি, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৪০০ প্রতিনিধি ওই সভায় অংশ নেন। সভার জন্য পুলিশকে আগেই অবহিত করা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
জাসদের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, সভা চলাকালে বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে তাদের নেতাকর্মীদের মারধর করেন। পরে পুলিশ এসে পর্যায়ক্রমে সভায় থাকা ব্যক্তিদের আটক করে নিয়ে যায়।
এদিকে ঘটনাস্থলে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও জড়ো হন। তারা বৈঠকটির উদ্দেশ্য এবং সেখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপস্থিতির অভিযোগ তদন্তের দাবি জানান।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডের তথ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই।