গফরগাঁওয়ে গণসংযোগে হামলা ও ওসির বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদে জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন
ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানাধীন নিগুয়ারী ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা গ্রহণে গড়িমসি এবং একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলামের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ২১ সেপ্টেম্বর (সোমবার) বেলা ১১টার দিকে নিগুয়ারী ইউনিয়নের অললী বাঁশতলী বাজার এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর শান্তিপূর্ণ গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি চলাকালে ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে হামলা চালানো হয়।
হামলায় নিগুয়ারী ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম হিরন, ওয়ার্ড সভাপতি মাওলানা আব্দুল আজিজ, মাওলানা আশরাফুল ইসলামসহ অন্তত সাতজন আহত হন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
গুরুতর আহত চারজনকে প্রথমে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ সময় হামলাকারীরা মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় বলেও অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার পর নিগুয়ারী ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম হিরন বাদী হয়ে মো. ইয়াসিন খান, মো. মোমেন ব্যাপারী, মো. সুজন খানসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করে পাগলা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, লিখিত অভিযোগ দেওয়ার দুই দিন পার হলেও পুলিশ এখনো মামলা রেকর্ড করেনি।
এ ছাড়া ‘দৈনিক কালবেলা’ পত্রিকায় প্রকাশিত পাগলা থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলামের বক্তব্যেরও তীব্র প্রতিবাদ জানান বক্তারা। প্রকাশিত বক্তব্যে ওসি বলেন, “নিগুয়ারীতে জামায়াতে ইসলামীর লোকজন আওয়ামী লীগের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে মিছিল করেছে এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা তা প্রতিহত করতে গিয়েছিল।”
ওসির ওই বক্তব্যকে ‘অসত্য, ভিত্তিহীন ও ঘটনার প্রকৃত বিবরণের সঙ্গে সাংঘর্ষিক’ দাবি করে ভুক্তভোগীরা বলেন, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের রাজনৈতিক ব্যাখ্যাযুক্ত বক্তব্য অপ্রত্যাশিত। তারা পুলিশের পেশাগত নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—
১. লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত মামলা রেকর্ড করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।
২. পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করা।
৩. আহতদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৪. তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৫. ভাঙচুর ও মালামাল ছিনতাইয়ের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা।
৬. রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে প্রতিটি নাগরিকের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা।
৭. পাগলা থানার ওসির বক্তব্যের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গফরগাঁও উপজেলা আমির মাওলানা ইসমাঈল হোসেন সোহেল, দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা আমির মাওলানা এমদাদুল হক, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আতিকুর রহমান হীরা, গফরগাঁও উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি সেলিম আল হাসানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অনুরূপ সংবাদ
বৈশ্বিক নারী জোটসমূহের সঙ্গে ইসলামী ছাত্রীসংস্থার বৈঠক
নাশকতার ঘটনায় জামায়াতকে জড়িয়ে রিজভীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি রেজাউল করিমের
মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা নিয়ে জামায়াতের নায়েবে আমীরের মতবিনিময়